উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে শুরু থেকেই কঠোর থাকতে হবে

উত্তরা প্রতিবেদক ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে শুরু থেকেই কঠোর থাকতে হবে
বাংলাদেশ লেবার পার্টি মনোনীত আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. মেজবাউল ইসলাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনী তৎপরতা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহী-২ (সদর) আসনেও জমে উঠেছে প্রচারণা। এ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি মনোনীত আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. মেজবাউল ইসলাম নির্বাচনী পরিবেশ, প্রশাসনের ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক উত্তরা প্রতিদিন-এর প্রধান প্রতিবেদক আবু সাঈদ রনি।

উত্তরা প্রতিদিন: বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

মেজবাউল ইসলাম: সত্যি বলতে নির্বাচনের মাঠ বেশ উত্তপ্ত। তবে এখন পর্যন্ত রাজশাহীর সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ মোটামুটি সুষ্ঠু রয়েছে। কিন্তু ইশতেহার ঘোষণা, মনোনয়ন জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দ-এই পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র আমরা দেখেছি। জুলাই আন্দোলনের যে চেতনা-বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা-তার সঙ্গে এসব ঘটনা কিছুটা সাংঘর্ষিক।

উত্তরা প্রতিদিন: আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে কী ধরনের অনিয়ম চোখে পড়েছে?

মেজবাউল ইসলাম: নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী মনোনয়ন জমা ও যাচাইয়ের সময় মাত্র ২ থেকে ৫ জনের উপস্থিতি থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেখানে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা গেছে। এমনকি প্রার্থী হিসেবে আমার বসার জায়গাও ছিল না। এটি স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদাহরণ।

উত্তরা প্রতিদিন: নির্বাচন কমিশন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

মেজবাউল ইসলাম: নির্বাচন কমিশন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে সম্পৃক্ত করেছে-এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। তবে তাদের কার্যক্রম কী হবে এবং কীভাবে তারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে, সে বিষয়ে জনগণ ও প্রার্থীদের পরিষ্কার ধারণা দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রাখে, তাদের ক্ষেত্রে আইন যেন সমানভাবে প্রয়োগ হয়-এটাই প্রত্যাশা।

উত্তরা প্রতিদিন: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

মেজবাউল ইসলাম: রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। তবে দেশব্যাপী যেসব ঘটনা ঘটছে-ঢাকা ও চট্টগ্রামে গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড-তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। নির্বাচন শুধু ভোটের দিন নিরাপদ হলেই চলবে না, বরং এর আগ থেকেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। অবৈধ অস্ত্র আমদানির খবর প্রার্থী ও ভোটারদের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত।

উত্তরা প্রতিদিন: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

মেজবাউল ইসলাম: রাজশাহীর জেলা প্রশাসক বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সবকিছু নতুনভাবে পরিচালিত হবে। আমরা চাই, এই বক্তব্য বাস্তবে প্রতিফলিত হোক। রাজশাহী যেন ভোট বাক্স দখল, সহিংসতা বা রাহাজানিমুক্ত থাকে-এ জন্য প্রশাসনকে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে।

উত্তরা প্রতিদিন: এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?

মেজবাউল ইসলাম: গত ১৭ বছরের প্রহসনমূলক নির্বাচনী সংস্কৃতি ভেঙে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক তরুণ এবার প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে নানা ধরনের প্রত্যাশা ও প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় জটিলতাও বাড়তে পারে।

উত্তরা প্রতিদিন: গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আপনার মতামত কী?

মেজবাউল ইসলাম: গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমের অবস্থান বদলে যাওয়াটা একটি বড় সমস্যা। অনেক সময় মালিকপক্ষের কারণে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। অন্তর্বর্তী ও ভবিষ্যৎ সরকারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যম যদি দ্রুত বিশৃঙ্খলার খবর তুলে ধরতে পারে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

উত্তরা প্রতিদিন: জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?

মেজবাউল ইসলাম: আমি একজন তরুণ প্রার্থী। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে। যারা ওই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, তারা তরুণদের পাশে থাকবেন বলে বিশ্বাস করি। শতভাগ নিশ্চয়তা না থাকলেও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আশাবাদী।

উত্তরা প্রতিদিন: শেষ কথা কী বলতে চান?

মেজবাউল ইসলাম: এখন পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া মোটামুটি সুষ্ঠুভাবেই এগিয়েছে। সামনে কী হবে, তা সময়ই বলবে। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন—যেখানে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবেন। 

Read more — মতামত
Home