উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

‘এখন আর বড় গরু পালনের সাহস পাই না’

উত্তরা ডেস্ক ১৬ মে ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ণ
‘এখন আর বড় গরু পালনের সাহস পাই না’

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমতে শুরু করেছে জয়পুরহাটের পশুর হাটগুলো। তবে, এবারের হাটে আগের বছরগুলোর মতো বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরুর দেখা মিলছে না বললেই চলে। খামারি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, বড় গরু লালন-পালনে অতিরিক্ত খরচ ও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় খামারিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। ফলে ঝুঁকি এড়াতে এখন তারা ছোট ও মাঝারি আকারের গরু পালনের দিকে ঝুঁকছেন।

খামারি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খড়, ভুসি, খৈল ও কাঁচা ঘাসসহ অন্যান্য গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এ কারণে বড় গরু পালন এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের মধ্যেও বড় গরুর চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে। অধিকাংশ ক্রেতাই এখন তুলনামূলক কম দামের ছোট ও মাঝারি গরু পছন্দ করেন।

ছয় বছর ধরে একটি বিদেশি জাতের বড় ষাঁড় গরু লালন-পালন করেছিলেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার খামারি সাগর হোসেন। ২০২৪ সালের কোরবানির ঈদে গরুটির ওজন হয়েছিল প্রায় এক হাজার কেজি। সে সময় বিভিন্ন পাইকার বাড়িতে এসে গরুটির দাম সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছিলেন। কিন্তু আরও বেশি দামের আশায় গরুটি তখন বিক্রি করেননি তিনি।

শেষ পর্যন্ত ওই ঈদে গরুটি আর বিক্রি হয়নি। পরে আরও এক বছর অতিরিক্ত লালন-পালন করে গত বছর ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে গরুটি মাত্র ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন সাগর। এই অতিরিক্ত এক বছরে গরুটির পেছনে খাবার ও পরিচর্যায় আরও প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন তিনি।

খামারি সাগর হোসেন বলেন, বড় গরু পালনে অনেক খরচ। খাবারের দামও বেশি। আশা ছিল ভালো লাভ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উল্টো লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন আর এত বড় গরু পালনের সাহস পাই না।

বড় গরু পালনে অনেক খরচ। খাবারের দামও বেশি। আশা ছিল ভালো লাভ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উল্টো লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন আর এত বড় গরু পালনের সাহস পাই না।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান জেলার আরেক খামারি সুমন হোসেন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর কোরবানির ঈদে বড় ষাঁড় গরু পালন করে গ্রাহক মেলেনি। আবার কাঙ্ক্ষিত দামও পাওয়া যায়নি। এ কারণে এবার খামারে ছোট ও মাঝামাঝি সাইজের গরু লালন-পালন করেছি।

আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ী এই হাটে এসেছি। এখানে গরু কিনে আমাদের পত্তা (লাভ) হয়। এবার হাটে বেশি ওজনের বড় বড় গরু ওঠেনি। এছাড়া যেসব তুলনামূলক বড় গরু এসেছে, সেগুলোর দাম কম। আর ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি।

জেলার অন্যতম পশুর বড় হাট বসে শহরের নতুনহাট এলাকায়। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে শনিবার (১৬ মে) সেখানে জমজমাট হাট বসেছিল। ওই হাটে চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন বলেন, আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ী এই হাটে এসেছি। এখানে গরু কিনে আমাদের পত্তা (লাভ) হয়। এবার হাটে বেশি ওজনের বড় বড় গরু ওঠেনি। এছাড়া যেসব তুলনামূলক বড় গরু এসেছে, সেগুলোর দাম কম। আর ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি।

ওই হাট ইজারাদার শামস মতিন বলেন, হাটে মানুষ ভালো গরু কিনে থাকে। আর এতো আগে থেকে স্থানীয় লোকজন কোরবানির গরু কেনেন না। এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা গরু কিনছেন। আজ হাটে বেশ ভালো সংখ্যক গরু উঠেছিল। বেচাকেনাও ভালো হয়েছে। কোরবানির আগে আরও কয়েকটি হাট রয়েছে। আশা করছি গরু আমদানি আরও বাড়বে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ২ লাখ ৩ হাজার ৩৫০টি। এর বিপরীতে খামারি ও গৃহস্থরা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৩টি পশু প্রস্তুত করেছেন। ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

‎জয়পুরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মহির উদ্দিন বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে, খামারিরা এখন বাজার চাহিদা বিবেচনা করে ছোট ও মাঝারি গরু বেশি পালন করছেন। বড় গরু পালনে খরচ ও ঝুঁকি দুটিই বেশি হওয়ায় খামারিদের বড় গরু লালন-পালনে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এবার জেলায় বিশাল আকৃতির পশুর সংখ্যা খুবই কম। তবে, আগের মতো ১২শ-১৪শ কেজি হবে না।

 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home