উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাজশাহীকে শিক্ষা, চিকিৎসা ও আইটির হাব বানাতে চাই

উত্তরা প্রতিবেদক ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহীকে শিক্ষা, চিকিৎসা ও আইটির হাব বানাতে চাই
এবি পার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ সাঈদ নোমান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজশাহী-২ (সদর) আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী মুহাম্মদ সাঈদ নোমান ঈগল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, গণভোট, গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও নিজের জয়ের সম্ভাবনা—বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক উত্তরা প্রতিদিন-এর প্রধান প্রতিবেদক আবু সাইদ রনি।

উত্তরা প্রতিদিন : বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে ‘ভালো নির্বাচন’-এর কথা বলছে। বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

সাঈদ নোমান: আমরা শুরু থেকেই একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সর্বজনস্বীকৃত ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা বলে আসছি। ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে আমরা একাধিকবার বৈঠক করেছি। আমি আমার মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পরও বারবার বলেছি—এই নির্বাচন যদি ফেয়ার ও ফ্রি না হয়, তাহলে দেশ ও জাতি আবার কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বে। এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

উত্তরা প্রতিদিন : রাজশাহীতে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেমন দেখছেন?

সাঈদ নোমান: স্পষ্টভাবে বললে-রাজশাহীতে কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে একটি বড় দলকে ‘ওয়াকওভার’ দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। বড় দল প্রকাশ্যে ভোট চাইছে, সেখানে কোনো ব্যবস্থা নেই; অথচ আমি গণভোট নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দেওয়ায় শোকজড হয়েছি। এটা প্রশাসনের একপেশে অবস্থানের প্রমাণ। আমি প্রশাসনকে বলব-হারুন ও বেনজীরের পরিণতি মনে রাখুন। নিরপেক্ষ থাকাই আপনাদের দায়িত্ব।

উত্তরা প্রতিদিন : বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার উদ্বেগ কী?

সাঈদ নোমান : রাজশাহী শান্ত শহর হলেও বড় দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ভোটের দিন গোলাগুলি, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক আছে-ভোটকেন্দ্রে যাওয়া যাবে কি না। এই পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়।

উত্তরা প্রতিদিন : প্রশাসনের প্রস্তুতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

সাঈদ নোমান: চট্টগ্রামে প্রশাসন যেভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা করে ব্যবস্থা নিয়েছে, রাজশাহীতে তা হয়নি। এখানে বড় দলের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থা সব জানে, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। আমি স্পষ্টভাবে বলছি—এদের এখনই গ্রেপ্তার না করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

উত্তরা প্রতিদিন : নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে-এ বিষয়ে আপনার মত কী?

সাঈদ নোমান: আলাদা হলে ভালো হতো। তবে সরকারের সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একদিনে করা হয়েছে। সমস্যা হলো-মানুষ গণভোট সম্পর্কে সচেতন নয়। সরকারকে পরিষ্কার ব্রিফিং দিতে হবে, লিফলেট বাসায় বাসায় পৌঁছাতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য—রাজশাহী-২ আসনে গণভোটের পক্ষে একমাত্র আমিই মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছি।

উত্তরা প্রতিদিন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

সাঈদ নোমান : একটাই চ্যালেঞ্জ—এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। নির্বাচন ব্যর্থ হলে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে। এজন্য প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন-সবাইকে নিরপেক্ষ হতে হবে। প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ—সবাইকে নিরপেক্ষ থাকাই মূল বিষয়। প্রশ্ন একটাই—সদিচ্ছা আছে কি না।

উত্তরা প্রতিদিন : গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?

সাঈদ নোমান : গণমাধ্যম জাতির বিবেক। সাংবাদিকদের কোনো পক্ষ নেওয়া যাবে না। ভোটের দিন কোথাও সমস্যা হলে দ্রুত হাইলাইট করতে হবে, প্রশাসনকে জানাতে হবে। প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তার বিষয়েও মিডিয়াকে সোচ্চার হতে হবে। আপনারা নিরপেক্ষ থাকলে এই নির্বাচন সুরক্ষিত হবে।

উত্তরা প্রতিদিন : রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে আপনার ইশতেহারের মূল দিক কী?

সাঈদ নোমান : আমার ইশতেহারের তিনটি স্তম্ভ-চিকিৎসা, শিক্ষা ও আইটি। রাজশাহীকে চিকিৎসা হাব বানাতে চাই। প্রতিটি থানায় মানসম্মত সরকারি স্কুল-কলেজ গড়ব। শিক্ষাকে গবেষণাভিত্তিক রোডম্যাপে আনব। আইটি পার্ক ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আমাদের লক্ষ্য-তরুণদের মেধাকে নষ্ট না করে মানব সম্পদে রূপান্তর করা।

উত্তরা প্রতিদিন : জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?

সাঈদ নোমান: আমি খুবই আশাবাদী। কারণ-গণঅভ্যুত্থানে আমি সরাসরি মাঠে ছিলাম। মতিহার থানা আমার এলাকা, যেখানে প্রায় ৭৫ হাজার ভোট। ৫৪ বছরে মতিহার থেকে কেউ এমপি হয়নি। মানুষ এবার নিজেদের সন্তানকে চায়। যদি ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা না হয়, মানুষ ভোট দিতে পারে—আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব ইনশাআল্লাহ। 

 

Read more — মতামত
Home