
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। এ বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। একই সঙ্গে বোর্ডের অধীন ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন। প্রকাশিত ফলাফলে এমন চিত্র উঠে আসে।
বোর্ডের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজশাহীর রয়েছে ৬টি, নাটোরের ১২টি, নওগাঁর ৬টি, বগুড়ার পাঁচটি, পাবনার তিনটি, সিরাজগঞ্জের চারটি, জয়পুরহাটের দুটি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠান।
রাজশাহীর প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পুঠিয়ার বেলপুকুর মহিলা কলেজ, বাঘার তেঁথুলিয়া পীরগাছা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ ও ভোকেশনাল, বাগমারার পীরগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, বৈলসিংহ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কাতিলা সবুজ সংঘ আদর্শ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাজশাহী কমার্স কলেজ।
নাটোরের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গুরুদাসপুরের বঙ্গবন্ধু সাইন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিএম ইনস্টিটিউট, আবুল খায়ের কলেজ, বেগম খালেদা জিয়া কলেজ, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার কলেজ, লালপুরের রাধাকান্তপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিংড়ার আকপাড়া শেরকোল বন্দর স্কুল এন্ড কলেজ, চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও গুরুদাসপুরের দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ ছাড়া নলডাঙ্গার সাতার ভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সরকুতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাঝগ্রাম হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নাটোর সদরের হয়বতপুর মাল্টিলেটারেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ রয়েছে এ তালিকায়।
নওগাঁর নিয়ামতপুরের সাংসইল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রাজাপুর বাত্তলি হাট কলেজ, মান্দার এসসি মডেল পাইলট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ঘোনা আদর্শ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, নওগাঁ সদরের হাঁপানিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মহাদেবপুরের আরিফ মেমোরিয়াল কলেজের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি।
বগুড়ার গাবতলীর তসলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজ, ধুনটের গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ, কাহালুর দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ এবং আল্লামার তাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজও রয়েছে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায়।
পাবনার সাঁথিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক টুকু কলেজ ও ছোন্দহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বেড়ার ঢালারচর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিরাজগঞ্জের ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, সদরের এসবি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ছোনগাছা মহিলা কলেজ, জয়পুরহাট সদরের শালপাড়া আইডিয়াল কলেজ ও কালাইয়ের মোলামগাড়ী আদর্শ কলেজ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজও এ তালিকায় রয়েছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. ইফফাত জেরীন বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যেভাবে লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। এ কারণে এবার সারা দেশেই অন্য বছরের তুলনায় ফলাফল খারাপ হয়েছে। তবে রাজশাহী বোর্ডে ফলাফল তুলনামূলক বেশি খারাপ হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বোর্ডে ডাকা হবে। চলতি সপ্তাহেই তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল উন্নয়নের জন্য এক বছর সময় দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

