
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়ের মধ্যেও সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই পাস করেছেন। এর মধ্যে ক্যাডেট কলেজগুলোতে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ছিল উল্লেখযোগ্য। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে বগুড়ার বিএএফ শাহীন কলেজের ৮০ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. ইফফাত জেরীন সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বগুড়ার বিএএফ শাহীন কলেজে ৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে তাঁদের কেউ জিপিএ-৫ পাননি। বগুড়ার শাহজাহানপুরের মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের ৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পাবনা ক্যাডেট কলেজে ৪৮ জনের মধ্যে ৪৭ জন এবং পাবনার স্কয়ার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৩ জনের মধ্যে ২২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ এবার অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন এবং প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অর্থাৎ শতভাগ পাসের পাশাপাশি শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের কৃতিত্ব দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নাটোরের সিংড়ার বিএম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
এ ছাড়া রাজশাহীর দুর্গাপুরের হরিরামপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের হযরত শাহ কামাল কলেজ থেকে একজন করে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই পাস করেছেন। তবে তাদের কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
সব মিলিয়ে নয়টি প্রতিষ্ঠানে ৩৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৯০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সে হিসাবে এসব প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৫৬ দশমিক ০৫ শতাংশ।
চলতি বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বোর্ডের অধীন ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এমন ফলাফল বিপর্যয়ের মধ্যেও নয়টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পাস এবং বিশেষ করে ক্যাডেট কলেজগুলোর উচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এ সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এটি অবশ্যই গৌরবময় অর্জন।

