উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজশাহীবাসীর যত প্রত্যাশা

পদ্মা ব্যারাজ থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজশাহীবাসীর যত প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার রাজশাহী সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁকে ঘিরে নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। তবে এই সফরকে ঘিরে কেবল রাজনৈতিক উদ্দীপনা নয়, রাজশাহীবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশাও। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোসহ নানা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

রাজশাহী কৃষিপ্রধান অঞ্চল হলেও শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক সীমিত। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষে অনেক তরুণকে কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় পাড়ি জমাতে হচ্ছে। স্থানীয় তরুণদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার মতো উদ্যোগের ঘোষণা আসবে। এতে রাজশাহীর অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব কমবে বলে মনে করছেন তারা।

আমান আলী নামে এক যুবক বলেন, রাজশাহীতে কর্মসংস্থানের অভাব তরুণদের জন্য বড় সমস্যা। তাই প্রধানমন্ত্রী এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবেন বলে আশা করি। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন প্রত্যাশা রেখে সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবক বলেন, শিক্ষানগরী হিসেবে রাজশাহীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি নগরীকে আধুনিক, শান্তিপূর্ণ ও বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিতে হবে।

রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির বলেন, রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন বলে আশা করছি।

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ রাজশাহী অঞ্চলের অন্যতম বড় দাবি। কৃষি, সেচব্যবস্থা, পানির প্রাপ্যতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, আমসহ কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক হিমাগার নির্মাণ এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা সম্প্রসারণের দাবিও দীর্ঘদিনের।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। এই মাঠেই তিনি নির্বাচনী প্রচারের শেষ বক্তব্য দিয়েছিলেন। এবার সরকারপ্রধান হিসেবে তার আগমনকে ঘিরে নগরবাসীর প্রত্যাশাও অনেক।

রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিটন বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, বন্ধ রেশম কারখানা চালু এবং হাইটেক পার্ককে নতুনভাবে সাজানোর মতো উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি রাজশাহীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার নির্মাণ এবং পদ্মার পাড়ে স্মৃতিসৌধ বা স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের দাবি জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাজশাহী-৩ পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীবাসী শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজশাহীর সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এই সফর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজশাহীর অর্থনীতিতে কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ, আখচাষিদের সহায়তা এবং কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আখচাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

ভূমিমন্ত্রী মনে করেন, রাজশাহী বিমানবন্দরে কার্গো বিমান চালু এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা গেলে কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসবে। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিশু হাসপাতাল চালু, ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে বিরতিহীন ট্রেন চালু, কলকাতার সঙ্গে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং চার লেনের বাইপাস সড়ক নির্মাণের মতো উদ্যোগও এ অঞ্চলের চিকিৎসা, যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী ধর্মসভা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে বিকেল তিনটায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। জনসভায় প্রায় চার হাজার ইক্ষুচাষির মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণের কর্মসূচিও রয়েছে।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home