উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রামেবি উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ
রামেবি উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আব্দুস সালাম (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার ও মুখপাত্র গাজীউর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার ও মুখপাত্র গাজীউর রহমান জানান, রামেবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসেন মঙ্গলবার রাতে রাজপাড়া থানায় অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আব্দুস সালামকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে আব্দুস সালামকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ২০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে উপাচার্যের কক্ষে যায়। এ সময় অধ্যাপক জাওয়াদুল হক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ নিয়ে ভার্চুয়াল সভায় ছিলেন। দলটি তাকে কোনো কিছু পড়ার সুযোগ না দিয়ে একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেয়।

রামেবির উপ-রেজিস্ট্রার মো. মোফাকখারুল ইসলাম জানান, উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসেন এতে বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে আরেকটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। মব সৃষ্টিকারী দলটি উপাচার্য ও তার ব্যক্তিগত সহকারীর স্বাক্ষর করা দুটি পদত্যাগপত্র নিয়ে যায়। একই সঙ্গে উপাচার্যের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপও নিয়ে নেওয়া হয়।

রামেবি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে বলেন, পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করানোর পরে কার্যালয়ের সিসিটিভি সরঞ্জাম খুলে নেওয়া হয়। বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে কয়েকটি কক্ষেও তালা দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক মদদপুষ্ট স্থানীয় ঠিকাদার ও বহিরাগত কিছু ব্যক্তি জোর করে তার কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। স্থানীয় ঠিকাদারদের পরিবর্তে ঢাকার ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তারা তাকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ ও ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে জোর করে তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, ওই দলে রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরীফুজ্জামান শামীমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে মহানগর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আল মোস্তাক শাহীন, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল এবং জিয়া মঞ্চের সভাপতি বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক লাল্টুও ছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানান। তবে মামলায় গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম ছাড়া অন্যদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।

এদিকে উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর প্রতিবাদ এবং কথিত ‘মব কালচার’-এর বিরুদ্ধে  বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকরা।

‘রাজশাহীর সর্বস্তরের চিকিৎসক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে চিকিৎসকরা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি মব তৈরি করে উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা চিকিৎসক যাতে এভাবে অপমানিত না হন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. তাসমিয়া আক্তার বলেন, কোনো শিক্ষক বা চিকিৎসককে এভাবে অপমানিত করা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহসান বলেন, এ ঘটনায় চিকিৎসক সমাজ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

সার্বিক বিষয়ে জানতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তবে তিনি ফোন না ধরাই এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home