উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ধানমন্ডিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে পুলিশের বাধা, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা দীপক আটক

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ণ
ধানমন্ডিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে পুলিশের বাধা, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা দীপক আটক

রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের একটি মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

আজ সোমবার বিকাল ৪টায় সেখানে মানববন্ধনটি আয়োজনের কথা ছিল। এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা দীপক শীলকে আটক করে পুলিশ।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল গানসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে ‘তৌহিদী জনতা’র নামে হামলা ও আগ্রাসনের প্রতিবাদে ‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’র ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করার কথা ছিল। বিকাল থেকেই সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

মানববন্ধনে অংশ নিতে আসা অভিনেত্রী সুমনা সোমা 

 বলেন, “দেশজুড়ে বাউলদের ওপর হামলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি। পুলিশ সদস্যরা বলেছেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া যাবে না। আমরা প্রতিবাদ করেছি। সেখানে পুলিশের একজন সদস্য বলেছেন, ‘জয় বাংলা স্লোগান নষ্ট হয়ে গেছে’। দীপক এবং আমরা প্রতিবাদ করি। তখন পুলিশ সদস্যরা আমাদের টেনেহিঁচড়ে গাড়ির দিকে নিয়ে যায়। দীপককে পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যায়।”

 

দীপক শীলকে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে দাঁড়িয়েই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন সুমনা সোমা। এ সময় কয়েকজন যুবক এসে তাকে বাধা দেন। তারা নিজেদের সাধারণ জনতা পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘এখানে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া যাবে না’। পরে নাট্যকর্মী এহসানুল আজিজ বাবু, শামীমা শওকত লাভলীসহ কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী প্রতিবাদ করলে তারা পিছু হটেন।

সেখানে দাঁড়িয়েই বক্তব্য দেন সংস্কৃতিকর্মীদের কয়েকজন। সংস্কৃতিকর্মী ফারুক এইচ খান বলেন, ‘বাউল সংগীতের অনুষ্ঠান বন্ধ, শিল্পী-জনতার কর্মসূচিতে বাধা এবং মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়।’

সারা দেশে বাউল ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর অব্যাহত আক্রমণ চলছে উল্লেখ করে তিনি এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এসব ঘটনার পেছনে স্বাধীনতাবিরোধী ও জঙ্গি মৌলবাদী গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফারুক এইচ খান।

মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ প্রতিহত করতে ১৯৭১ সালের মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক শামীমা শওকত লাভলী  বলেন, “আমরা এখানে এসেছিলাম দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ হওয়ার প্রতিবাদ জানাতে। পুলিশের বাধার কারণে সেটি তো আর করা গেল না। অনেক বাউল ও সংস্কৃতিকর্মী এখানে এসেও মানববন্ধনে যোগ দিতে পারেননি। পুলিশ বলছে, ‘জয় বাংলা স্লোগান নষ্ট হয়ে গেছে’। তারা কি এটা বলতে পারেন? যেসব বাউল আমাদের সঙ্গে সংহতি জানাতে আসছিলেন, সাধারণ মানুষও আসছিলেন, তারা ভয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেন। অর্থাৎ, শুরুর আগেই আয়োজনটি পণ্ড হয়ে গেল। আমরা তো কোনো রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে বা রাজনৈতিক কিছু বলতে আসিনি। ‘জয় বাংলা’ বলা যাবে না, এমন বাংলাদেশ তো চাইনি। খুবই দুঃখজনক।”

ঘটনাস্থলে থাকা মিজান নামে একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘মানববন্ধনে কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। একজন উগ্র আচরণ করায় তাকে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যাওয়া হয়।’

 

 

উত্তরা / এ এম 

Read more — সারাদেশ
Home