উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাবিতে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা স্থগিত, কমপ্লিট শাটডাউন সোমবার

২৫ সেপ্টেম্বরই রাকসু নির্বাচন
শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
উত্তরা প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
রাবিতে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা স্থগিত, কমপ্লিট শাটডাউন সোমবার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারির সন্তানদের ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক যে সুবিধা (পোষ্য কোটা) পুনর্বহাল করা হয়েছিল তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদালয় প্রশাসন। রোববার বিকেলে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিণ্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ সাংবাদিকদের ব্রিফকালে এই কথা জানান।

এদিকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল। রোববার বিকালে এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।

এছাড়া সিণ্ডিকেটে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা স্থগিত করায় সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।  রাবি অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। কারণ, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সুবিধা আছে। এটি আমাদের না দেওয়ায় আগামীকাল (আজ সোমবার) থেকে আমরা কমপ্লিট শাটডাউনে যাচ্ছি।’

সিণ্ডিকেটে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা স্থগিত ও তদন্ত কমিটি: গতকাল বিকেল ৫টার পর সিণ্ডিকেট সভা শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ। তিনি জানান, সিন্ডিকেট সভায় প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল হয়েছে। পাশাপাশি গত শনিবার জুবেরী ভবনে শিক্ষক লাঞ্ছিতের যে ঘটনা ঘটেছে, তার তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় ৫ সদস্যের  একটি তদন্ত কমিটি গঠন কর হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় তদন্তও হবে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বলেন, ‘গত শনিবার প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় ভর্তি স্থগিতের যে ঘোষণা করা হয়েছে, সেই বিষয়টি সিন্ডিকেটকে জানানো হয়েছে। সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় রোববার থেকে যে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল সেটি আর শুরু করছি না। আমাদের সংশ্লিষ্ট বডিগুলোতে সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

জুবেরী ভবনে শিক্ষক লাঞ্ছনাকে নজিরবিহীন ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত শনিবার একজন উপ-উপাচার্য এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ জন্য সিন্ডিকেট নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এছাড়া নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

স্থানীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্কের জন্য একটি লিঁয়াজো কমিটি গঠনের কথাও জানান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। তিনি বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, নানাভাবে খবর পাচ্ছিলাম যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের গোলমাল লাগিয়ে দেওয়া হতে পারে। এমন অপচেষ্টার ব্যাপারে আমরা অবগত ছিলাম। এ ব্যাপারে শক্তিশালী একটি তদন্ত কমিটি করেছি। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে একটি লিঁয়াজো কমিটি করা হয়েছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাকসু নির্বাচন যথাসময়েই হবে। বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রাকসু নির্বাচন। আশা করছি যথাসময়ে হবে। এখন পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা যারা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তারা আজ একটি কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু রাকসুর কার্যক্রম এর আওতামুক্ত ছিল। রাকসুর ব্যাপারে সিন্ডিকেট থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কিছু নেই। রাকসু যেন যথাসময়ে হয়, সে জন্য সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে সকল পক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’

২৫ তারিখেই রাকসু নির্বাচন: আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরেই রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  রোববার সন্ধ্যায় রাকসু নির্বাচন কমিশানার অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল আকন্দ এক প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তা ভিত্তিহীন। গত শনিবার কিছু দুষ্কৃতিকারীর হাতে আমাদের উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, ও একজন নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হয়েছেন। আমরা তার নিন্দা জানাচ্ছি।  অনাকাঙ্ক্ষিত গঠনার ফলে আমরা যে উৎসবমূখর পরিবেশে রাকসু করতেছিলাম তা কিছুটা স্থবির হয়েছে। আমাদের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম চলমান আছে। আইনশৃঙ্খলাসহ সকল কার্যক্রম আমাদের প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বডি বৈঠকে বসেছিলাম। বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে আমরা ২৫ তারিখে রাকসু আয়োজন করতে চাই। কেননা, শিক্ষার্থীদের হাতে এই রাকসু তুলে দেয়ার জন্য অনেক দিন থেকে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যখন কমিশনে বসি, শিক্ষক হিসেবে আমাদের যে বিচার, বিচক্ষণতা ও নৈতিকতার দ্বারা আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণীয় হয়ে থাকতে চাই। এখানে কারো বিশেষ এজেণ্ডা বা কারো কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্যের কোনো সুযোগ নেই। আমরা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করছি  এবং সকল পক্ষকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং আমরা কমিশনে বসে পর্যালোচনা করেছি, যদি ২৫ তারিখের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে তাহলে অবশ্যই ২৫ তারিখেই রাকসু নির্বান অনুষ্ঠিত হবে।’

আজ থেকে কমপ্লিট শাটডাউন : সিণ্ডিকেট সভায় প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা স্থগিতের প্রতিবাদে সোমবার থেকে ক্যাম্পাসে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক এক প্রেসব্রিফিংয়ে রাবি অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। কারণ, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সুবিধা আছে। এটি আমাদের না দেওয়ায় সোমবার থেকে আমরা কমপ্লিট শাটডাউনে যাচ্ছি।’

এর আগে রোববার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তারা। তবে কমপ্লিট শাটডাউনে পরিবহন, পানি, বিদ্যুৎ ও আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রাকসু নির্বাচন এর বাইরে থাকবে।

কর্মবিরতির মধ্যেই গাছতলায় রাবি শিক্ষকের ক্লাস:  রাবির পোষ্য কোটা পুনর্বহাল ও শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচারের দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি দিন গতকাল রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে গাছতলায় ক্লাস নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মুর্শেদুল ইসলাম পিটার। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও নেন তিনি।

অধ্যাপক মুর্শেদুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা বৈষম্য করার কারণে পালিয়েছেন। এই প্রশাসন এসেছে বৈষম্য দূর করার জন্য। তাহলে এখন বৈষম্য করবে কেন? পোষ্য কোটা কয়েকবার বাতিলের ঘোষণা হয়েছে, আবারও আন্দোলনের মাধ্যমে ফিরিয়ে এনেছে। শিক্ষক-কর্মকর্তারা চাচ্ছেন, তাঁদের সন্তানকে ভর্তি করতে আর প্রশাসন চাচ্ছে আন্দোলন হোক।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমার ছাত্ররা শিক্ষকদের ওপর আঘাত করবে না। তাঁরা যে অভিযোগ এনেছেন, তা প্রমাণ করুক।’

শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন: উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি বলা হয়, উপ-উপাচার্য ও কয়েকজন শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে, সোমবার বেলা ১১টায় একটি মানববন্ধন কর্মসূচি করা হবে। এছাড়া জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।  

আনাগোনা কম শিক্ষার্থীদের, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ: সরেজমিনে দেখা যায়, কর্মবিরতি থাকলেও গতকাল রোববার সকালে ক্যাম্পাসে সব একাডেমিক ভবনের ফটকের তালা যথারীতি খুলে দেওয়া হয়েছে। খুলেছে প্রশাসন ভবনও । নির্দিষ্ট সময়ে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিক সময়েই ক্যাম্পাসে আসা শুরু করেন। 

শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে গতকাল বেশির ভাগ বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন অফিস ও বিভাগের দাপ্তরিক কাজও বন্ধ ছিলো। অন্যান্য দিনের তুলনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনাও অনেক কম দেখা গেছে। অধিকাংশ বিভাগের ক্লাসরুম ও অফিসকক্ষ বন্ধ ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জামাল নজরুল ইসলাম বিজ্ঞান ভবন ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। পৃথক কয়েকটি বিভাগের কথা বলে জানা যায়, তাঁদের কারও আজ ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাফিন বলেন, ‘বেলা ১১টায় একটি কোর্সের ক্লাস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভাগে এসে দেখি সব তালাবদ্ধ। এখন ফিরে যাচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় সেমিস্টার পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে শিক্ষার্থীরা সকালে জানতে পারেন, পরীক্ষা হবে না। এই বিভাগের শিক্ষার্থী কাওছার আহমেদ বলেন, রোববার আমাদের সেমিস্টার ফাইনালের ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল। তবে সকালে আমরা বিভাগে এলে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান জানান, পরীক্ষা হবে না। কালও (আজ) পরীক্ষা আছে। সেটি হবে কি না, তা সিন্ডিকেট সভার পর জানানো হবে।’

টিলেঢালা রাকসুর প্রচারণা: আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাকসু নির্বাচন। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার বাকী মাত্র তিন দিন। রাকসুর শেষ মূহুর্তে গত পরিস্থিতিতে আজ ক্যাম্পাসে নির্বাচনী আমেজ কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুব বিল্লাহ। তিনি রবীন্দ্র ভবনের সামনে বসেছিলেন বেলা সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত। গত বৃহস্পতিবারেও তিনি এই সময়ে ক্যাম্পাসের যেকোনো জায়গায় থাকলে প্রায় অর্ধ-শতাধিক প্রার্থীর দেখা পেতেন। তবে গতকাল তিনি দেখা পেয়েছেন মাত্র ২ জন প্রার্থীর। তিনি বলেন, ‘আমি গত দেড় ঘণ্টা এখানে বসে আছি। অন্য  যেকোনো দিনে এখানে বসলে অন্তত ৫০ জন প্রার্থীর দেখা পাই। রোববার পেয়েছি মাত্র দুই জনের দেখা। প্রার্থীরা মনে হয় বুঝে গেছে এই পরিস্থিতে নির্বাচন হওয়া কঠিন। কেমন যেন এক নিস্তেজ ভাব তৈরি হয়েছে নির্বাচনী মাঠে।’

নাদিয়া হক মিথি রাকসুতে লড়ছেন ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকে সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পরে অন্যান্য দিন তিনি লিফলেট হাতে ঘুরলেও আজ তাকে দেখা গেছে বন্ধুদের আড্ডায়। তিনি জানান, ‘কর্মবিরতির জন্য ক্যাম্পাসে আজ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। অন্যদিকে এই  পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রচারণা করাটাও অস্বস্তিকর।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে ১৮ তারিখের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে জরুরি অ্যাকাডেমিক কমিটির সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভায় ১০ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এর বিরুদ্ধে আবার টানা আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

গত শনিবার বিকেলে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মাঈন উদ্দিনসহ প্রশাসনে থাকা তিনজন কর্মকর্তা জুবেরী ভবনে শিক্ষার্থীদের হাতে লাঞ্ছিত হন। তারপর থেকে সেখানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। রাতে হল থেকে বের হয়ে আসেন ছাত্রীরাও। তাঁরা মাঝরাত পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব মধ্যরাতে বাসার প্রধান ফটকের সামনে এসে ঘোষণা দেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় ভর্তি আপাতত স্থগিত। এ নিয়ে রোববার সিন্ডিকেট সভা হওয়ার ঘোষণা দেন উপাচার্য। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে চলে যায়। এরপর থেকে তারা নতুন কোনো কর্মসূচি দেননি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিণ্ডিকেটের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, তারা পোষ্য কোটা স্থগিত নয়, সরাসরি বাতিল চান।

Read more — শিক্ষা
Home