উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

শিক্ষামন্ত্রীর সেই বিতর্কিত এপিএস এবার ডিপিইর পরিচালকের দায়িত্বে

উত্তরা ডেস্ক ১৮ মে ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ণ
শিক্ষামন্ত্রীর সেই বিতর্কিত এপিএস এবার ডিপিইর পরিচালকের দায়িত্বে

বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বদলি-তদবির বাণিজ্য, আওয়ামী সংশ্লিষ্টতাসহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকার পরও প্রাথমিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ফের পুনর্বাসন করা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে চলছে সমালোচনা।

গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানকে সরিয়ে নতুন এপিএস দুলাল মিঞাকে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এদিকে, একইদিনে মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) পরিচালক-প্রশাসন পদে পদায়ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এমন জায়গায় ফ্যাসিস্টের দোসরদের পুনর্বাসিত করায় ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ জুলাই যোদ্ধারাও। তারা বলছেন, ‘‘এই ধরনের আওয়ামী লীগের দোসর অফিসারকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক-প্রশাসনের মত গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ দেওয়া বিএনপির জন্য বিপদ ডেকে আনবে।’’

 

জানা গেছে, মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানের মূল পদ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে  শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তার ডজনখানেক পত্রিকায় লেখা কলাম রয়েছে। এছাড়াও ফেসবুকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের নিয়ে নিয়মিত প্রশংসামূলক পোস্টও দিতেন তিনি।

এদিকে, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে বরিশাল জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক পদ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এহসানুল হক মিলন যখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, তখন ওমর ফারুক তার জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন।

সেই দীর্ঘদিনের পরিচিত ও ‘পরীক্ষিত’ কর্মী হিসেবেই মিলন এবার পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তাকে নিজের এপিএস হিসেবে বেছে নেন। তবে নিয়োগের মাত্র ৩ মাসের মাথায় তাকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওমর ফারুক দেওয়ানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি এবং তদবির বাণিজ্যে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

 

এছাড়া দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা তার এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ওপর তদন্ত চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে শিক্ষামন্ত্রী তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও ওমর ফারুক দেওয়ানকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) পরিচালক পদে পদায়ন করা হলো। তবে এ নিয়ে নতুন করে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের পদটি মূলত তৃতীয় গ্রেডের (যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার)। অন্যদিকে ওমর ফারুক দেওয়ান বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের একজন কর্মকর্তা।

নিয়মানুযায়ী একজন চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাকে তৃতীয় গ্রেডের পদে পদায়ন করা বিধিযোগ্য নয়। ফলে এই পদায়ন শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কিনা, নাকি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাকে সেখানে বসানো হবে—তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এই পদায়ন কার্যকর হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে আজ সোমবার (১৮ মে) বিকেলে ওমর ফারুক দেওয়ানকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

 

Read more — শিক্ষা
Home