উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

মনগড়া তথ্যে নয়, পত্রিকার প্রচার সংখ্যা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন: তথ্যমন্ত্রী

উত্তরা ডেস্ক ১৭ মে ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ণ
 মনগড়া তথ্যে নয়, পত্রিকার প্রচার সংখ্যা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন: তথ্যমন্ত্রী

মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে করা টেলিভিশন চ্যানেলের টিআরপি এবং পত্রিকার প্রচার সংখ্যা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন বণ্টন ব্যবস্থা থেকে সরকার বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রোববার (১৭ মে) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্পাদক ও সংবাদ প্রধানদের নিয়ে গঠিত টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল’ টিইসির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, টিআরপি (টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট) এবং পত্রিকা ছাপার সংখ্যা, যেহেতু এই দুইটা হচ্ছে আউটলেট। আপনার ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় আপনার কত লোক দেখে, কত লোক দেখে না- এটার একটা পরিসংখ্যান ব্যবস্থা আজকালকার ডিজিটাল যুগে কোনো কঠিন কাজ না। ছাপার ক্ষেত্রে যেহেতু আমাদের সব প্রেসের কনফার্মেশন কমপালশন করা যায়নি, হিস্ট্রি ডিজিটাল প্রেসে যাবে, সেহেতু তার ছাপাটা পাওয়ার কোনো ডিজিটাল মেকানিজম নাই। কিন্তু, এই না থাকার সুযোগে মাত্র ৫০০টি টিআরপি দিয়ে আমি দেশের ৫ কোটি টেলিভিশনের হিসাব বুঝিয়ে দেব, অথবা সেই মিথ্যাকে গ্রহণ করব, অথবা পত্রিকার ছাপাকে আমি আমার মনগড়া একটা সংখ্যার ভিত্তিতে বিজ্ঞাপনের সুযোগ-সুবিধা বণ্টন করব- এই নীতিমালা থেকে তথ্য মন্ত্রণালয় বেরিয়ে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে যারা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন, তাদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে গণমাধ্যম খাতে মালিকানা নির্ধারণ, শ্রম আইন অনুসরণ, কর-ভ্যাট পরিশোধ, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এসব নিয়ম না মানলে তাদের লাইসেন্স না দেওয়া বা নবায়নের সময় জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে এখনো সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ওয়েজ বোর্ডসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাজ করেছে। গণমাধ্যম খাতের সমস্যাগুলো আরও মনোযোগের সঙ্গে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া প্রয়োজন। টেলিভিশন মালিক, কেবল অপারেটর, ব্রডকাস্টিং ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাফিক্সসহ গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবীর সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, দক্ষ জনবল তৈরির জন্য রাষ্ট্রের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি থাকা দরকার। কারণ, গণমাধ্যমকর্মীরা যত আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হবেন, ততই সামগ্রিক গণমাধ্যমব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কমিশনকে নিজেদের ‘ইন্সট্রুমেন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলেও এসময় অভিযোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানও প্রকৃত মানবাধিকার রক্ষার বদলে অনেক সময় সরকারের অপকর্ম আড়াল করার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব দাঁড়িয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক বিবেকের কাছ থেকে আড়াল করা। কোন মানবাধিকার লঙ্ঘনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে আর কোনটি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হবে, সেটাও নির্ধারণ করত সরকার।

Read more — জাতীয়
Home