উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

বিজ্ঞানে বরাদ্দ বাড়াতে আগামী বাজেটে জোর প্রচেষ্টা থাকবে: ভূমিমন্ত্রী

উত্তরা প্রতিবেদক ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞানে বরাদ্দ বাড়াতে আগামী বাজেটে জোর প্রচেষ্টা থাকবে: ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। এ খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়াতে আগামী জাতীয় বাজেটে বিজ্ঞানের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালাবে। আজ রোববার রাজশাহী কলেজ অডিটোরিয়ামে বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা, ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বিশ্বের ধনী ও উন্নত দেশগুলো বিজ্ঞানের মাধ্যমেই এগিয়ে গেছে। আমেরিকার নাসা বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের নিয়ে কাজ করছে। তারা বিজ্ঞানীদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেয়। আমাদের শিক্ষার্থীরাও বিদেশে যাবে, শিখবে, গবেষণা করবে; তবে সবার আগে থাকতে হবে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ। দেশের মানুষের টাকায় পড়াশোনা করে অর্জিত জ্ঞান দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আপনি ডাক্তার, প্রকৌশলী কিংবা বড় বিজ্ঞানী হোন—শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ও গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী বাজেটে বিজ্ঞানের জন্য আরও বেশি বরাদ্দ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’ বিজ্ঞান ও কৃষির সম্পর্ক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘ফারাক্কার প্রভাবে উত্তরাঞ্চলে যে পানিশূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় খাল খননসহ নানা উদ্যোগ নিতে হবে। একসময় দেশে ইরি ধানের চাষ ছিল না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইন্দোনেশিয়া থেকে এই ধান নিয়ে আসেন। পরে দেশের বিজ্ঞানীরা এর উন্নত জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এখন বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।’ ওরস্যালাইনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত খাবার স্যালাইন বা ওরস্যালাইন আজ সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে। একসময় কলেরায় হাজার হাজার শিশু মারা যেত। এখন স্বল্প খরচে সেই মৃত্যুহার অনেক কমেছে।’ বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও স্থাপত্য খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিশ্বখ্যাত উইলিস টাওয়ারের স্থপতি ফজলুর রহমান খান ছিলেন বাংলাদেশের সন্তান। পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়াও এই রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুও এই অঞ্চলের গৌরব। তাদের পথ ধরেই নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী কলেজ একসময় উদ্ভিদবিদ্যা শিক্ষায় অবিভক্ত বাংলার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান ছিল। এখানকার বোটানিক্যাল গার্ডেন ও গবেষণা অবকাঠামো অনেক ঐতিহ্য বহন করে। আজকের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের মধ্যেও ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আল মামুন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান ও রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. ইব্রাহিম আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মোহা. আছাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী। পরে তিনি বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন। বিজ্ঞান মেলায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন কলেজের ৪৮টি দল অংশ নেয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, বিচারকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home