উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলা, শতাধিক নিহত

বিদেশ ডেস্ক ১২ মে ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ণ
নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলা, শতাধিক নিহত

 

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার বোর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবোর একটি বাজারে দেশটির বিমানবাহিনীর চালানো হামলায় অন্তত ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানিয়ে অবিলম্বে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রোববার জামফারার জুরমি জেলার দুর্গম তুমফা বাজারে এই ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে একই বাজারে দ্বিতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, আহতদের জুরমি ও নিকটবর্তী শিনকাফি শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। তবে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে সেনাবাহিনী দাবি করে আসছে, তারা শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালায় এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয় না।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে অ্যামনেস্টি জানায়, রোববার দুপুরে ওই এলাকায় একাধিক সামরিক বিমান আকাশে চক্কর দিতে দেখা যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানগুলো ফিরে এসে জনাকীর্ণ বাজারে অতর্কিত হামলা চালায়। মুহূর্তেই বাজারটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

এর আগে গত এপ্রিলে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জিলি এলাকায় সাপ্তাহিক বাজারে অনুরূপ বিমান হামলায় প্রায় ২০০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনারও তদন্ত চলছে বলে জানায় সামরিক কর্তৃপক্ষ।

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান ও বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী একদিকে সশস্ত্র দস্যু গোষ্ঠী, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ইসলামি বিদ্রোহ দমনে অভিযান চালাচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এ ধরনের ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সশস্ত্র বিদ্রোহী, দস্যু এবং সামরিক বাহিনী—সব পক্ষের সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সংস্থাটি আরও বলেছে, এই হামলা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবহেলার ইঙ্গিত দেয় এবং এটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে তদন্ত করা উচিত। সূত্র: রয়টার্স

Read more — আন্তর্জাতিক
Home