উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

শিশু সাদমানের লাশ যুবকের কোলে, বিষয়টি নিয়ে যা জানা গেল

উত্তরা ডেস্ক ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ণ
শিশু সাদমানের লাশ যুবকের কোলে, বিষয়টি নিয়ে যা জানা গেল

রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছেন এক যুবক। তার কোলে ৩ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ। রাজধানীর মহাখালী এলাকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনের এমন একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ছবিটি ঘিরে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ ব্যবহারকারী ছবিটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘সন্তানের লাশ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন বাবা’। তবে বাস্তবতা ভিন্ন— শিশুটির মা মিম আক্তারের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, ছবিতে মরদেহ কোলে থাকা ব্যক্তি সাদমানের বাবা নন, বরং তার দুলাভাই রাফি।

মিম আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে ঘটনাটি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। একমাত্র সন্তানকে হারানোর শোকে তার স্বামী মো. সজিব মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সাদমান খুব চঞ্চল ও প্রাণবন্ত ছিল। অসুস্থতার সময়ও মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করলেও সাম্প্রতিক জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর সে অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে।

হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়েও তীব্র অভিযোগ তোলেন সাদমানের মা। তার দাবি, চিকিৎসায় ব্যাপক অবহেলা করা হয়েছে। নার্সদের একাধিকবার ডাকলেও তারা সাড়া দেননি, এমনকি অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে সমস্যার সময়ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। আইসিইউ থেকে সন্তানের অবস্থার উন্নতির কথা জানানো হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি টেস্ট রিপোর্ট সম্পর্কেও সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন মিম আক্তার।

এদিকে ছবিতে দেখা যাওয়া সাদমানের দুলাভাই রাফি জানান, শিশুটির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই তিনি হাসপাতালে ছুটে যান এবং দ্রুত মরদেহ নিয়ে বের হয়ে আসেন। খরচ ও সময়ের কথা বিবেচনা করে তারা সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করেন। ফ্লাইওভার পার হওয়ার আগে সিএনজিতে থাকা অবস্থায় দুই ব্যক্তি শিশুটির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে উত্তর দেন, এর বাইরে আর কারো সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।

তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. আসিফ হায়দার জানান, গত ১৬ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে সাদমানকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৮ এপ্রিল তাকে ক্রিটিক্যাল ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে তার শরীরে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ বা সেপটিসেমিয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি দাবি করেন, পেডিয়াট্রিক ও আইসিইউ কনসালটেন্টদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হলেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

Read more — সারাদেশ
Home