উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

হিটস্ট্রোকের আগে সতর্ক হোন, গরমে কী করবেন

উত্তরা ডেস্ক ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
হিটস্ট্রোকের আগে সতর্ক হোন, গরমে কী করবেন

দুপুরের রোদটা যেন আজ একটু বেশিই তীব্র। ঢাকার এক ব্যস্ত রাস্তায় কাজ শেষে হাঁটছিলেন রিকশাচালক রহিম মিয়া। সকাল থেকেই রোদে ছিলেন। তেষ্টা পেয়েছিল কিন্তু কাজের চাপে পানি খাওয়ার সুযোগ হয়নি তেমন। হঠাৎ করেই মাথা ঘুরে উঠল। চোখে ঝাপসা দেখা, শরীরটা কেমন দুর্বল লাগছে। কিছুক্ষণ পর রাস্তায় বসে পড়লেন তিনি।

পাশের লোকজন ছুটে এলো। কেউ একজন বলল, হয়তো হিটস্ট্রোক হয়েছে। দ্রুত তাকে ছায়ায় নিয়ে যাওয়া হলো। মাথায় পানি দেওয়া হলো, শরীরে বাতাস করা হলো। একটু পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করলেন রহিম মিয়া। কিন্তু একটু দেরি হলে পরিস্থিতি হতে পারত আরও খারাপ।

এই ঘটনাটি কাল্পনিক হলেও গ্রীষ্মের তীব্র গরমে এমন পরিস্থিতি বাস্তবে প্রায়ই ঘটছে। প্রতিদিনই অনেক মানুষ অসতর্কতার কারণে ঝুঁকিতে পড়ছেন হিটস্ট্রোকের। গ্রীষ্মের এই তীব্র গরমে এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক বা পথচারীরা তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ একটি উষ্ণ দেশ। এ দেশে মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া গরম ধীরে ধীরে চরমে পৌঁছায়। এই সময়ে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে যায় প্রচুর পানি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমে একজন মানুষ ঘণ্টায় ২ থেকে ৩ লিটার পর্যন্ত ঘামতে পারেন। ফলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে, শক্তি কমে যায়, আর তখনই শুরু হয় বিপদ।

হিটস্ট্রোকের আগে শরীর কিছু সংকেত দেয়। যেমন: মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া। অনেক সময় ত্বক গরম হয়ে যায়, কিন্তু ঘাম কমে আসে। কেউ কেউ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন বা অজ্ঞান হয়ে যান। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তাই গরমে সুস্থ থাকতে সবচেয়ে জরুরি হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। পিপাসা লাগার আগেই গড়ে তুলতে হবে পানি খাওয়ার অভ্যাস। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা আখের রস শরীরকে দ্রুত সতেজ করে।

খাবারের ক্ষেত্রেও থাকতে হবে সচেতনতা। গরমে ভারী, তেল-ঝাল খাবার এড়িয়ে হালকা, তরল ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উচিত। তরমুজ, আম, আঙুর, কমলার মতো রসালো ফল শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।

পোশাকের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। হালকা রঙের পাতলা সুতির কাপড় গরমে আরাম দেয়। বাইরে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা উচিত।

যদি কারও মধ্যে হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত তাকে ঠাণ্ডা স্থানে নিতে হবে। আঁটসাঁট কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে, শরীরে বাতাস করতে হবে এবং প্রয়োজনে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

গরমকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। একটু সচেতনতা আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

Read more — লাইফস্টাইল
Home