উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

আশ্রয় পেলেন অসহায় সালেহা বেওয়া

উত্তরা ডেস্ক ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ণ
আশ্রয় পেলেন অসহায় সালেহা বেওয়া

জীবনের পুরোটা সময় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরআন পড়িয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়েছেন সালেহা বেওয়া। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার নেই নিজের কোনো ঘর, নেই নির্ভর করার মতো আপনজন। অবশেষে ঠাঁই হয়েছে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ওল্ড অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হোম আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারীদের শেডে শুয়ে আছেন সালেহা বেওয়া। অপরদিকে পুরুষদের শেডে অবস্থান করছেন তার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ছেলে আব্দুর রহিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান আমলেই স্বামী কাজেম শেখকে হারান সালেহা বেওয়া। এরপর মানুষের বাড়িতে কোরআন পড়ানো ও ছোটখাটো কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেন তিনি। দীর্ঘদিন বগুড়ার গোয়ালগাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা। বড় ছেলে হানিফ শেখ বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালালেও প্রায় দুই বছর আগে তার মৃত্যু হয়। ছোট ছেলে আব্দুর রহিম কয়েক বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারান। ফলে পরিবারটি চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।

 

সম্প্রতি ভাড়া বাসা ছাড়তে বাধ্য হলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন মা-ছেলে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় কর্ণপুর উত্তরপাড়া মাজার গেট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন তারা।

এ অবস্থায় তাদের দুর্দশা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে আশ্রয়কেন্দ্রটির পরিচালক পল্লী চিকিৎসক ডা. সেবিনের। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-ছেলেকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

অসহায় সালেহা বেওয়া বলেন, অনেক কষ্টে ছিলাম। এখানে আসার পর এখন ভালো আছি। ওষুধ দেয়, চিকিৎসা করে আল্লাহ বাঁচাইয়া রাখছে। ডাক্তার বাবা ঠিক মতো খাবার দিচ্ছে আর যাব না, এখানেই থাকব।

 

তার ছেলে আব্দুর রহিম বলেন, আমরা একটি ভবনের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেখান থেকে ডাক্তার সাহেব আমাদের এখানে নিয়ে এসেছেন। এখন ভালোভাবে রাখছেন, তিনবেলা খাবার দিচ্ছেন, ওষুধ দিচ্ছেন; অনেক যত্ন নিচ্ছেন।

পল্লী চিকিৎসক ডা. সেবিন গণমাধ্যমকে বলেন, সংবাদটি দেখার পর এবং স্থানীয় এক নারীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে আমি সেখানে যাই। গিয়ে তাদের মানবেতর অবস্থা দেখে আর ফেলে আসতে পারিনি। পরে আশ্রয়কেন্দ্রে এনে থাকার ব্যবস্থা করি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তারা আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছেন। বিষয়টি তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি যিনি ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন, তাকেও কৃতজ্ঞতা।

তবে সালেহা বেওয়া ও তার সন্তান রহিমের পাশাপাশি, এই ওল্ড এন্ড চাইল্ড কেয়ার হোম আশ্রয় কেন্দ্রে আরও আছে ১৮ জন। নিজ অর্থে পরিচালনা করছেন আশ্রয় কেন্দ্রটি ডাক্তার সেবিন। সরকারি কোনো সহায়তা পেলে বড় পরিসরে করার চিন্তা ডাক্তার সেবিনের।

 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home