
ছাত্রত্ব শেষ হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটার হওয়ার দাবি জানিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই দাবিতে রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে অবস্থান করেন তারা।
অবস্থান করা নেতারা হলেন- শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের রহমান, আবু সাঈদ, ইমরান হোসেন রাকেশ, সোহরাওয়ার্দী হল শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসানসহ অন্তত ১০-১৫ জন।
জানা গেছে, ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ছাত্রদল নেতারা বেলা ১১টার দিকে রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তভূক্তির দাবি জানান। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভূক্ত নয় জানানো হলেও তারা সেখানে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে অবস্থান করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা এখানে এসেছেন তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তির দাবিতে। এ ছাড়াও তাদের আরও কিছু দাবি রয়েছে। তারা সকাল থেকে এখান থেকে অবস্থান করছেন এবং কমিশনের কয়েকজনকে আটকে রাখছেন। কমিশনের সদস্যরা তাদের কাজ করতে পারছে না। তবে তাদের এই দাবি আমাদের আওতাভূক্ত না।’
অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের রহমান বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকায় অসঙ্গতিসহ কয়েকটি দাবিতে অবস্থান করছি। আমাদের এর বাইরে কোনো দাবি নেই।’
ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন কোনো দাবি নেই।’
অবস্থান করা আরেক নেতা আবু সাঈদ কোষাধ্যক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার আমলে ঝুকি নিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছি। মাত্র কয়েকদিন হলো আমার মাস্টার্সেও ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। আমার দুই শিক্ষাবর্ষ বড় শিবির সভাপতি ভোটার, কিন্ত আমি না। আমাকে সেই সুযোগ দিতে হবে। কোনো সেশনের একজন ভোটার হলে ওই বর্ষের সবাইকে সুযোগ দিতে হবে।’
তবে তারা দলীয় নয় ব্যক্তিগত জায়গা থেকে গিয়েছেন মন্তব্য করে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘আমি জেনেছি কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গিয়েছেন। তারা কেউ দলীয় জায়গা থেকে যাননি। তারা সবাই ব্যক্তিগত জায়গা থেকে গিয়েছেন।’
সার্বিক বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা রাকসু নির্বাচন কমিশনের সচিবের কর্যালয়ে বসে আছেন। তাদের দাবি একটাই তাদেরকে ভোটার তালিকায় যুক্ত করতে হবে। আমরা তাদের বলেছি বিষয়টি উপাচার্য দেখেবেন।’
ডাবল মাস্টার্স চালুর দাবি
ছাত্রদলের একটি সূত্রে জানা যায়, শাখা ছাত্রদলের অনেক নেতা-কর্মীর নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় রাকসুর প্রার্থী হতে কয়েকজন নেতা উপাচার্যের কাছে ডাবল মাস্টার্স চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘এটা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়। ডাবল মাস্টার্স চালুর জন্য একাডেমিক কাউন্সিল থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হয়। এ ছাড়াও রিলেটেড কোর্সে অনার্স শেষ করার তিন বছরের মধ্যে কেউ চাইলে এটা করতে পারে। তাও সেই বিভাগে আসন ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে একটা সার্কুলার হবে সেখানে আবেদন করে ভর্তি হতে হয়।’

