
'তথ্য চাইলে কি সত্যিই পাওয়া যায়?'—এক শিক্ষার্থীর এমন প্রশ্নে মুহূর্তেই নীরব হয়ে যায় মিলনায়তন। মঞ্চ থেকে জবাব আসে, 'তথ্য পাওয়া আপনার অধিকার।' সঙ্গে সঙ্গে করতালিতে ভরে ওঠে পুরো হলরুম।
কুইজ, প্রশ্ন-উত্তর ও বাস্তব জীবনের গল্পে এমনই প্রাণবন্ত পরিবেশে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে তথ্য অধিকার বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন সভা।
আজ মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সভায় বক্তারা বলেন, তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
বক্তারা জানান, তথ্য জানার অধিকার একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার। তথ্য মানেই শক্তি, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের সংবিধানে তথ্য অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯(১) অনুচ্ছেদেও এই অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে।
নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে দ্য কার্টার সেন্টারের বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস এই সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি দুর্নীতি দমন কমিশনের সততা সংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় তথ্য অধিকার আইনের সফল প্রয়োগের কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা হয়। কোথাও উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য জানার মাধ্যমে অনিয়ম রোধ, আবার কোথাও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগী নিশ্চিত করার অভিজ্ঞতা শোনানো হয়। এসব বাস্তব গল্প শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর আগ্রহ সৃষ্টি করে।
ওরিয়েন্টেশনে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯–এর পটভূমি, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তথ্যের সংজ্ঞা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা, আবেদন করার নিয়ম, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়া ও আবেদন ফি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।
‘আইন জানো, অধিকার জানো’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সভাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সঠিক উত্তরে করতালি আর ভুল উত্তরে হাসিতে মিলনায়তন পরিণত হয় এক উন্মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও অনুভূতি প্রকাশ করা হয়। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমতি বলেন, “বাস্তব উদাহরণ ও কুইজের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছি, তথ্য জানার মাধ্যমে কীভাবে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায়।”
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইফাত বলেন, 'আজ জানতে পারলাম, সাধারণ নাগরিক হিসেবেও আমরা সরকারি দপ্তর থেকে তথ্য চাইতে পারি। এই জ্ঞান আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।'
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফজলুল বারী বলেন, তথ্য অধিকার আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং দুর্নীতির সুযোগ কমে যায়। এটি নাগরিক ক্ষমতায়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
স্বাগত বক্তব্যে দ্য কার্টার সেন্টারের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শাম্মী লায়লা ইসলাম বলেন, সঠিক তথ্যই শক্তি। অধিকার সম্পর্কে জানলেই তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর আলী এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পবা উপজেলার সভাপতি মো. আখতার ফারুক।

