
নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে এক কুখ্যাত গরু চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৫টি গরু লালন-পালন করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে থানা পুলিশ। গরুগুলো থানায় আনার পর একটি গরু থেকে এঁড়ে বাছুরের জন্ম হওয়ায় বর্তমানে গরুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬টিতে। নওগাঁ আদালত থেকে দুইবার গরুগুলো নিলামের নির্দেশ প্রদান করলে চোরাই গরু রাখার বাড়ির মালিক কুখ্যাত গরু চোর অসিতের স্ত্রীর করা আপিলের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।
প্রায় ৫ মাস যাবত একজন লোক রেখে গরুগুলোর দেখভাল করা ও গরুগুলোর খাবারের যোগান দিতে গিয়ে থানার ওসি হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া থানা প্রাঙ্গনে এই গরুগুলো রাখার কারণে নষ্ট হচ্ছে থানা প্রাঙ্গনের পরিবেশ, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন রাখার সেডও। তাই আইনী জটিলতা দূর করে দ্রুত গরুগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে থানার সুন্দর একটি পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন থানায় সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা।
জানা গেছে, গত জুলাই মাসে উপজেলার গোনা গ্রামের এক অসহায় কৃষকের বাড়ি থেকে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গরুর মালিক রাণীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ভোররাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামের অসিতের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত গরু চোর অসিতকে আটক করা হয়। পরে অসিতের গোয়ালঘর থেকে ৫টি চোরাই গরু উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়ায় আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক রাণীনগর থানা প্রাঙ্গনে রেখে লালন-পালন করা শুরু হয়।
রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, ২৭ আগস্ট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালত নং-০১ এর কার্যালয় নওগাঁর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নিলাম বিক্রয় কমিটির সদস্য সচিব মো. আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত গরুগুলো প্রকাশ্যে বিক্রির প্রথম নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। নিলামের আগের দিন চোরাই গরু রাখার বাড়ির মালিক অসিতের স্ত্রী পপি রাণী আদালতে গরুগুলো নিজের দাবি করে আইনী আশ্রয়ে গেলে আদালত সেই নিলাম আদেশ বাতিল করেন। পরবর্তীতে অসিতের স্ত্রীর করা অভিযোগ তদন্তের পর আদালত থেকে দ্বিতীয়বারের মতো ২৯ সেপ্টেম্বর গরুগুলো পুনরায় নিলামের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বিক্রির আদেশ জারি করলে অসিতের স্ত্রী পপি রাণী উচ্চ আদালতে আপিল করলে সেই নিলাম কার্যক্রমও বাতিল করা হয়। ফলে আইনী জটিলতার কারণে গরুগুলোর দেখভাল করার কাজটি দিন দিন জটিল হয়ে পড়ছে এবং দীর্ঘ হচ্ছে যা থানার পুলিশি কার্যক্রমকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।
ওসি বলেন, আটককৃত গরু চোরেরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে যে, তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে এনে অসিতের বাড়িতে রাখতো। পরবর্তীতে ওই বাড়ি থেকে সময়মতো সেই গরুগুলো বিক্রি করে দিতো। তাহলে অসিতের বাড়িতে থাকা চুরি করা গরুগুলো তাদের হয় কি করে। অযথাই অসিতের স্ত্রী পপি রাণী গরুগুলোর মালিকানা দাবি করে গরুগুলো নিলামে তোলার কার্যক্রমকে ব্যাহত করছেন। আর দীর্ঘদিন ধরে এই গরগুলো লালন-পালন করতে গিয়ে থানা পুলিশকে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
থানার ওসি আরও বলেন, শুরু থেকে একজন ব্যক্তিকে কিছু সম্মানী প্রদানের শর্তে গরুগুলোর দেখভালের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সেই ব্যক্তিকেও পারিশ্রমিক দেওয়া জটিল হয়ে পড়েছে। অপরদিকে গরু লালন-পালনের সকল উপকরণগুলোর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সেই উপকরণগুলো যোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গরুগুলো রাখার নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকার কারণে থানা প্রাঙ্গনের গাড়ি রাখার সেডে গরুগুলোকে রাখতে হচ্ছে ফলে সেড ও থানা প্রাঙ্গনের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত আইনী জটিলতা শেষে গরুগুলোর বিষয়ে একটি সুন্দর সমাধান পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাণীনগর থানা বর্তমানে গরুর খামারে রূপান্তরিত হয়েছে। থানায় প্রবেশের মুখেই গরুগুলোকে দেখা যায়। এই গরুগুলোর কারণে থানাটি তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে। বর্তমানে যেখানে বাড়িতে একটি গরু লালন-পালন করা একটি জটিল বিষয় সেখানে থানা প্রাঙ্গনে প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ করে ৬টি গরুকে দীর্ঘদিন যাবত লালন-পালন করা সত্যিই একটি দুরূহ বিষয়। এই গরুগুলো থানা পুলিশের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোরাই গরু উদ্ধার করে যদি পুলিশ সদস্যদের এমন বিপদে পড়তে হয় তাহলে আগামীতে এই ধরণের কাজ থেকে পুলিশ সদস্যরা মুখ ফিরিয়ে নিবেন বলে মনে করেন তারা।
উত্তরা / এ এম

