উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

স্বর্ণের ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্ব, ২০ লাখ টাকায় খুন যুবদল নেতা শাকের

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বর্ণের ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্ব, ২০ লাখ টাকায় খুন যুবদল নেতা শাকের

মাগুরায় পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। আর এ হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, ডাকাতির স্বর্ণের ভাগ চাওয়ায় প্রথমে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি শাকের। পরে তাকে সরিয়ে দিতে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর সকালে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের একটি কাউন্টারের ভেতর থেকে শাকের হোসেনের (৩৯) গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ গত ৬ অক্টোবর মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র খুঁজে পায়। ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে ঝিনাইদহে নেওয়ার পথে পুলিশ পরিচয়ে ১৪টি স্বর্ণের বার লুট করে ১২-১৫ জনের একটি দল। লুট হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ছিল ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পুলিশ বলছে, ওই ডাকাতির সঙ্গে শাকেরসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন।

 

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, ডাকাতির নেতৃত্বে ছিলেন মারুফ হোসেন। লুট করা স্বর্ণের ভাগ অন্য সদস্যদের না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। শাকেরও মারুফের কাছে স্বর্ণ ও টাকার ভাগ দাবি করতে থাকেন।

 

এ নিয়ে গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাগুরা ট্রাক টার্মিনালে শাকের, মারুফ, রুবেল ও গোলাম জাহিদ বৈঠকে বসেন। একপর্যায়ে শাকের ও মারুফের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে গোলাম জাহিদ মারুফকে শাকেরকে কিছু টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পারনান্দুয়ালী এলাকায় ওয়াজ মাহফিল শেষ হলে আবার বসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

 

পরদিন ৮ অক্টোবর মারুফ শাকেরকে ৫ লাখ টাকা দেন। তবে তাতে সন্তুষ্ট হননি শাকের। তিনি স্বর্ণের বার দেওয়ার জন্য মারুফকে চাপ দিতে থাকেন। এরপরই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরও জানান, শাকেরের অব্যাহত চাপের মুখে মারুফ গোলাম জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শাকেরকে হত্যার জন্য ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় মারুফ গোলাম জাহিদকে ২০ লাখ টাকা দেন। পরদিন ওই টাকা থেকে ১৮ লাখ টাকা যমুনা ব্যাংকে জমা করা হয়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনি দিয়ে ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে শাকেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ লুট হওয়া স্বর্ণের মধ্যে ৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন মো. জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, ফরিদ মন্ডল, মিল্টন মোল্লা, মারুফা আক্তার, গোলাম জাহিদ ও মারুফ হোসেন।

অন্যদিকে শাকের হত্যা মামলায় আটক ছয়জন হলেন রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম, অনিমেষ মজুমদার, মারুফ হোসেন, গোলাম জাহিদ ও বশির আলী।

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

উত্তরা/ এ এম 

Read more — সারাদেশ
Home