
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পেছনে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে, যার দৃষ্টান্তও পাওয়া গেছে।
গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটায় সিলেট নগরের দরগাহ গেট এলাকার একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সিলেট সফর উপলক্ষে মতবিনিময়সভার আয়োজন করা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারা এখানে হস্তক্ষেপ করছে, উসকানি দিচ্ছে। শ্রমিকদের নানাভাবে উসকানি দিয়ে নামানোর চেষ্টা করছে। তার উদাহরণ আছে, দৃষ্টান্ত আছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ১১ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের একজন নেতা ওই উসকানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ভেতর থেকে তারা যে কাজ করছেন, নিজেরাই আবার সেটি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও তাদের কর্মকাণ্ড স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের এই চেষ্টা এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে।’
জামায়াতের আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘কোন বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে? মাত্র ৮ মাস হলো একটি সরকারের বয়স। এই সরকার দেশের উন্নতি, আর্থিক উন্নতি, ব্যবসা সম্প্রসারণসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক করছেন। সেখান থেকে বিনিয়োগ নিয়ে এসে দেশে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করছেন।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য ১৭ বছর লড়াই করেছে। অনেক রক্ত ঝরিয়ে, অনেক জীবন উৎসর্গ করে সেই লড়াই চালিয়েছে। অন্যদিকে, গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জনগণ বুঝতে পারছে।’
দেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে আসার চেষ্টা করলে তা জনগণ মেনে নেবে না।’
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কঠিন সংকটের মুখে ছিল। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে সংকট তৈরি হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিকল্প দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘এলাকার মধ্যে কে উপযুক্ত প্রার্থী, কার জনপ্রিয়তা ও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তা স্থানীয় নেতারা ঠিক করবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করবেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।’
মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

