
ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কার উপকণ্ঠে ইয়ামেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। ওআইসি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর আঞ্চলিক দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করল। এর আগে ২০১৭ সালে মক্কার অভিমুখে আসা একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে হুথি কর্মকর্তারা মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সৌদি মুখপাত্র সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় বলেন, 'এই শত্রুতাপূর্ণ চেষ্টা উগ্রবাদী সন্ত্রাসবাদী হুথি মিলিশিয়াদের সীমালঙ্ঘনের রেকর্ডে আরও একটি কালো দাগ হয়ে থাকবে। এটি বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের অনুভূতিতে আঘাত হানার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।' তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ৫৫টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিত্বকারী 'অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন' (ওআইসি) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের হামলা পবিত্র স্থান ও মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে এবং নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইয়ামেনে হুথিদের দ্রুত অগ্রগতি এবং প্রতিবেশী সৌদিতে ধারাবাহিক হামলা রিয়াদকে এক কঠিন সংকটে ফেলেছে।
মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদির খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফ শহর লক্ষ্য করে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুথিরা, যাতে অন্তত ১৩ জন আহত হন। এর জবাবে ইয়ামেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা জোরদার করেছে সৌদি বাহিনী।
উত্তরা/এএইচ

