
সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পবিত্র মক্কা নগরীতে বিমান হামলার সাইরেন ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, পবিত্র মক্কা নগরী, জেদ্দা ও তায়েফ গভর্নরেটসহ দেশটির পশ্চিম উপকূলের বেশ কয়েকটি শহরে সাময়িকভাবে এই সতর্কতা জারি করা হয়। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মক্কা নগরীতে বিপদ কেটে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবাই নির্দেশনা মেনে চলুন এবং ভিড় করা থেকে বিরত থাকুন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হায়োম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সতর্কতার কারণে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এর আগে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার ও সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের তায়েজ শহরের কাছে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
গত কয়েকদিনে সৌদি আরবে একের পর এক হামলা চালিয়েছে হুথিরা। চলতি সপ্তাহে চালানো এসব হামলায় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়, যাতে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। এছাড়া সোমবার পশ্চিম ইয়েমেনে হুথিদের হামলায় আটজন সরকারি সেনা নিহত হন।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র রূপ নেওয়ার পর এই উত্তেজনা বেড়েছে। হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর কর্মকর্তা হাজেম আল-আসাদ সতর্ক করে বলেছেন, 'যতক্ষণ তারা (সৌদি আরব) আমাদের জনগণের ওপর আগ্রাসন অব্যাহত রাখবে, ইয়েমেনিদের প্রতিক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে এবং তা আরও বাড়বে।'
অন্যদিকে, এই ক্রমবর্ধমান সংঘাতের বিষয়ে কাতার সতর্ক করে জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে তা পুরো বিশ্বের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ রক্ষা করা এবং হুথিদের মোকাবিলার কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্ব।
উত্তরা/এএইচ

