
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা। বালুদস্যুরা মাইকিং করে জড়ো হয়ে অতর্কিত হামলা চালালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের রাজু শেখ নামে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
সোমবার রাত আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রাম এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে আসছিল। নদীভাঙন রোধ ও পরিবেশ রক্ষায় সোমবার বিকেল থেকে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার বোয়ালিয়া এবং ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হাতিয়াদহসহ কয়েকটি পয়েন্টে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত চারটি বড় ড্রেজার মেশিন ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রাম এলাকায় অপর একটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা। এ সময় বালু উত্তোলনে জড়িত স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রটি অপপ্রচার চালিয়ে গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে লোক জড়ো করে। মুহূর্তের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি সংগঠিত হয়ে ইউএনও এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিমের ওপর লাঠিসোটা, গাছের ডাল ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালায়।
হামলাকারীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক রাজু শেখ মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সঙ্গীয় ফোর্স অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান ও গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য। পরে যৌথ বাহিনী দ্রুত পৌঁছে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ইউএনও ও তাঁর টিমকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ‘খবর পাওয়ার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ইউএনও মহোদয়সহ সকলকে নিরাপদে নিয়ে আসে। সরকারি কাজে বাধা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় এবং নদীভাঙন ঠেকাতে জনস্বার্থে আমাদের এই অভিযান ছিল। অভিযানকালে অতর্কিতভাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে সরকারি টিমের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত প্রতিটি অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
উত্তরা /এএম

