
নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে মৃত দুই শিশুর মরদেহ দাফনের প্রস্তুতির সময় পুলিশের সুরতহাল করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে গ্রামবাসীর হামলায় আহত হন পুলিশের দুই সদস্য। পরে তাদের একটি মাদরাসায় অবরুদ্ধ করে রাখে গ্রামবাসী।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেলে নন্দকুজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায় দুই শিশু- ফারহান ইসলাম ও লাম ইসলাম। বাদ মাগরিব স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে যখন দাফনের প্রস্তুতি চলছিল, তখন ঘটনাস্থলে যান গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক আবুল বাশার ও কনস্টেবল আব্দুর রাকিব। দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ইউডি মামলা হওয়ায় মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে দাফনের ঠিক আগমুহূর্তে মরদেহের সুরতহাল করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন গ্রামবাসী দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালায়।
পুলিশের দাবি, হামলার পর তাদের একটি স্থানীয় মাদরাসায় নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
গ্রামবাসী জানান, মরদেহ দাফনের ঠিক আগে সুরতহাল করতে যাওয়ায় ভুল বোঝাবুঝি থেকেই পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়েছিল।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে দুই পুলিশ সদস্যের তদন্ত কার্যক্রমে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের পুলিশলাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

