উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তর

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ণ
গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তর

গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কল্যাণ, চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

সভায় আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

 

তিনি বলেন, অনেকে গুমের শিকার হয়েছেন, কেউ নির্মম হত্যাকাণ্ড বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়ে আর পরিবারের কাছে ফিরে আসেননি। অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা অসংখ্য মিথ্যা মামলায় সর্বস্ব হারিয়ে বছরের পর বছর কারাভোগ করেছেন। এসব মানুষের ত্যাগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

মন্ত্রী আরো বলেন, ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী শক্তি যাতে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং কোনো পরিবারকে স্বজন হারানোর মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

 

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার, মানবাধিকার রক্ষা, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বন্ধ এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ২০০৯ সালের পর ভোটাধিকার হরণ, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের সেই আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম হয়েছেন কিংবা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্র কী করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের রয়েছে।

 

সভায় ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ‘সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস)’ সংশোধনের মাধ্যমে নতুন এই দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

এ ছাড়া জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রিপারেশন’ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

 

সভায় তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, গুম-খুন-নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন এবং ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সংশ্লিষ্ট সিডিউল সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের তালিকায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা।

 

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

Read more — জাতীয়
Home