
রাজশাহী নগরীতে নগরায়ন ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শব্দদূষণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নগরীর অন্যতম ব্যস্ত দুইটি এলাকায় শব্দমাত্রা পরীক্ষায় উভয় স্থানেই ১০০ ডেসিবেলের বেশি সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা পাওয়া গেছে। এগুলো হলো- নগরীর রেলগেট ও হাসপাতালকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লক্ষ্মীপুর মোড়ে। এতে জনস্বাস্থ্য ও নগর পরিবেশ নিয়ে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ।
বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে এবং বারিন্দ এনভায়রনমেন্টের সহযোগিতায় রেলগেট ও লক্ষ্মীপুর মোড়ে শব্দের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিমাপ করা হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রেলগেটে পরিমাপ করা শব্দের সর্বোচ্চ গড় মাত্রা পাওয়া যায় ১০১.৫ ডেসিবেল।
একই দিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর মোড়ে সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ১০২.৬ ডেসিবেল। অথচ গত বছর রেলগেট ও লক্ষ্মীপুর মোড়, উভয় স্থানেই সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা ছিল প্রায় ৯৭ ডেসিবেল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উভয় এলাকাতেই শব্দদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেন- প্রকৌশলী মো. জকির হোসেন খান (পিএইচডি)। তাকে সহযোগিতা করেন ড. অলি আহমেদ, শামসুর রাহমান শরীফ, মো. ওবায়দুল্লাহ, রুমানা আহমেদ, ইফাত আরা, কলি আহমেদ, আবু তারেক বিন আজিজ, রুহুল হাসান পলাশ সহ সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবীরা।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সাল থেকে একই স্থান ও প্রায় একই সময়সূচিতে রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধারাবাহিকভাবে শব্দমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও দিনের ব্যস্ততম সময়ে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়।
এর আগে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (টঘঊচ) ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে ঢাকাকে বিশ্বের সর্বাধিক এবং রাজশাহীকে বিশ্বের চতুর্থ সর্বাধিক শব্দদূষিত শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে রাজশাহীতে শব্দমাত্রা প্রায় ১০৩ ডেসিবেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের পরিমাপ রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণের উচ্চমাত্রার বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
মো. জাকির হোসেন খান জানান, বাংলাদেশের শব্দদূষণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী শব্দমাত্রার ভিত্তিতে এলাকাকে নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প—এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, দিনের বেলায় বাণিজ্যিক এলাকায় অনুমোদিত শব্দমাত্রা ৭০ ডেসিবেল, আর নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল। রেলগেট বাণিজ্যিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের কেন্দ্রস্থল হওয়ায় লক্ষ্মীপুর মোড় নীরব এলাকার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে। ফলে পরিমাপ করা ১০১.৫ ও ১০২.৬ ডেসিবেলের শব্দমাত্রা উভয় এলাকার অনুমোদিত সীমার তুলনায় অত্যন্ত বেশি। ব্যাটারিচালিত অটো ও অযথা হর্ন অন্যতম কারণ, হর্ন নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ ছাড়া শব্দদূষণ শুধু মানুষের জন্য নয়, জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে শব্দদূষণবিরোধী লিফলেট বিতরণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে সংস্থাটি। সংস্থার পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চালক ও নগরবাসীকে সম্মিলিতভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় ‘অপ্রয়োজনে হর্ন নয়’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উত্তরা/এএম ।

