
হয়ে গেল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোটে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আওয়ামী লীগ আমলের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করায় নতুন নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে সেই নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়।
তাতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। আগামীকাল শুক্রবার শপথ নেওয়ার মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক মির্জা ফখরুল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। অনেকের জানতে চান, এই পদধারী আর কী কী সুবিধা পান। চলুন খুঁজি তার উত্তর।
রাষ্ট্রপতির বেতন ও সুযোগ-সুবিধা ‘রাষ্ট্রপতির (বেতন ও কার্যাবলী) আইন’-এর মাধ্যমে নির্ধারিত।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির বেতন ৬১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে বর্তমান হারে নির্ধারণ করা হয়।
রাষ্ট্রপতির বেতন সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এই বেতন থেকে তাকে কোনো আয়কর দিতে হয় না।
মূল বেতনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি বাসভবন, যানবাহন, চিকিৎসা, রাষ্ট্রীয় সফর, নিরাপত্তা ও আপ্যায়ন সুবিধা।
জনকল্যাণ ও সামাজিক কাজে ব্যয়ের জন্য রাষ্ট্রপতির একটি স্বেচ্ছাধীন তহবিল রয়েছে। এ তহবিলের পরিমাণ বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার কাজে এ অর্থ ব্যয় করা যায়।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অতিথিদের আপ্যায়ন ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক আয়োজনের জন্য রাষ্ট্রপতির বিশেষ বিনোদন ও আপ্যায়ন ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ, আসবাবপত্র, সাজসজ্জা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে বহন করা হয়।
বঙ্গভবনে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও ইন্টারনেটসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরিষেবার ব্যয়ও সরকারি ব্যবস্থায় পরিশোধ করা হয়।
রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চলাচলের জন্য সরকারি যানবাহনের ব্যবস্থা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ও সরকারি প্রয়োজনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি বিশেষ সরকারি বিমান ব্যবহারের সুবিধা পান।
এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ রেলওয়ের ভিআইপি সেলুন কার এবং নৌপথে সরকারি জলযান ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। দেশ-বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় যাতায়াত, থাকা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে বহন করা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি সফরের সময় রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউসে বিনা খরচে অবস্থান করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি এবং তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার ব্যয় রাষ্ট্র বহন করে। দেশের যেকোনো হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকারি ব্যবস্থায় বহন করা হয়।
রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকে বিশেষ প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা বাহিনী। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তার দায়িত্ব পালনের কোনো কাজের জন্য আদালতে জবাবদিহির বিধান নেই। রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত কিছু সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইন অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আমৃত্যু শেষ আহরিত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক পেনশন পান। বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী এ অর্থ ৯০ হাজার টাকা।
এর পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য চিকিৎসাসেবা, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন অফিস অ্যাটেনডেন্ট, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সরকারি টেলিফোন সুবিধার মতো সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে।
অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিস্তৃত রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা। দায়িত্ব পালনকালীন বাসভবন, যানবাহন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সফর ও আপ্যায়ন থেকে শুরু করে মেয়াদ শেষে পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা।
উত্তরা/এএম

