উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

তালাবদ্ধ কক্ষে গলাকাটা মরদেহ, ফিঙ্গারপ্রিন্টে ২৪ ঘণ্টায় পরিচয় শনাক্ত

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ণ
তালাবদ্ধ কক্ষে গলাকাটা মরদেহ, ফিঙ্গারপ্রিন্টে ২৪ ঘণ্টায় পরিচয় শনাক্ত

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির পচনধরা গলাকাটা মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় বের করা হয়। এ ঘটনায় মো. আল-আমিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে তদন্ত সংস্থা।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়া থানার বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে আমির আলীর ভাড়া দেওয়া একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। বিষয়টি বাড়ির মালিক তাহেরুন্নেসার নজরে এলে তিনি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে কক্ষটির দরজা ভেঙে ভেতর থেকে এক ব্যক্তির পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটির গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে ওই সময় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইমসিন দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। পরে মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিহত ব্যক্তি খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত এলাকার মো. কামরুল খান (৪৪)। তার বাবার নাম মৃত করিম খান।

 

 

এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। একই দিন পিবিআই ঢাকা জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্ত শুরু করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দীন।

তদন্তে নেমে পিবিআই প্রথমে নিহতের পরিচয় ও তার আশুলিয়ায় আসার সূত্র ধরে তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সম্ভাব্য ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে নিহতের পরিচিত হিসেবে আল-আমিনের নাম সামনে আসে। পরে পিবিআই খুলনা জেলার সহায়তায় ১৭ আগস্ট তেরখাদা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারের পর আল-আমিনের কাছ থেকে নিহত কামরুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার সেই কক্ষের বাথরুমের প্যানের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, কামরুল ও আল-আমিন একই এলাকার বাসিন্দা এবং ছোটবেলা থেকেই তাদের পরিচয় ছিল। জীবিকার সন্ধানে গত ৮ আগস্ট তারা দুজন খুলনা থেকে আশুলিয়ায় আসেন। পরে রাজু সিটির সামনের ওই কক্ষটি ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার একটি ছুরি নিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। তখন দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে আল-আমিন ছুরিটি কেড়ে নেন। পরে ওই ছুরি দিয়েই কামরুলের গলায় আঘাত করেন তিনি। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু হয়।

 

হত্যার পর আল-আমিন ছুরিটি কক্ষের বাথরুমের প্যানের মধ্যে ফেলে দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। এরপর বাইরে থেকে কক্ষটিতে তালা লাগিয়ে তিনি আশুলিয়া ছেড়ে খুলনায় চলে যান। কয়েক দিন পর কক্ষটি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি বাড়ির মালিকের নজরে আসে এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। ওই কক্ষ ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়ির মালিক ভাড়াটেদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পরিচয়সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র কিংবা মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করেননি। ফলে মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে দ্রুতই নিহতের পরিচয় এবং হত্যায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পিবিআই বলছে, হত্যাকাণ্ডে আল-আমিন ছাড়া আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

উত্তরা/এএম 

Read more — সারাদেশ
Home