
যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজশাহীতে অংশীজনদের নিয়ে এক নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার নগরীর কাদিরগঞ্জের শাহ ডাইন রেস্টুরেন্টে রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ সার্ভিসেস, ট্রেনিং অ্যান্ড এডুকেশন প্রোগ্রাম (আরএইচস্টেপ) পরিচালিত ‘অপরাজেয় তারুণ্য (ইউওয়াইপি)’ প্রকল্পের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের রাজশাহীর উপপরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক। আরএইচস্টেপের রাজশাহী ইউনিট ম্যানেজার মো. মামুনুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক রাফিউন নাহার এবং রাজশাহী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ সিদ্দিকী।
সভায় স্কুল-কলেজের শিক্ষক, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, কমিউনিটি প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ প্রকল্পের মেন্টর ও অ্যাডভোকেটরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউওয়াইপি প্রকল্পের ইয়ুথ অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম।
পরে প্রকল্প কর্মকর্তা দীপ্তী সরকার মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে ২০২৫ সালে প্রকল্পের অর্জন ও ২০২৬ সালের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। উপস্থাপনায় কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, যুব নেতৃত্ব বিকাশ, লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা এসআরএইচআর বিষয়ে বর্তমান চ্যালেঞ্জ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের স্বাস্থ্য ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও কমিউনিটি নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা এসআরএইচআর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুববান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা ও নেটওয়ার্কিং আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে একটি শক্তিশালী অংশীজন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে, যা কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের জন্য অধিকতর নিরাপদ, তথ্যভিত্তিক ও অধিকারসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

