উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

১ জুন ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ণ
আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে, সেই বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। 

সাধারণ মানুষ একটু ভালো সেবা পাওয়ার আশায় এসব নামি-দামি হাসপাতালে যায়, সেখানেও দেখা যাচ্ছে সীমাহীন অবহেলা-অব্যবস্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে, মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশন না থাকায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এই ছয় নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সন্তানহারা অভিভাবকরা জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। গণমাধ্যমে বলা হয়, গত বুধবার হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ওই ওয়ার্ডে এসি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ‘শ্বাসরুদ্ধকর’ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। হাসপাতালটির মহাপরিচালক ড. নাহিদা ইয়াসমিনও স্বীকার করেছেন, ভেন্টিলেশন না থাকা এবং এসি বন্ধ থাকায় দম বন্ধ হয়ে শিশুদের মৃত্যু হতে পারে। একটি আধুনিক বেসরকারি হাসপাতালে সদ্যোজাত শিশুদের জন্য এমন কক্ষ নির্বাচন করা হলো কী করে? এই ছয় শিশুর মৃত্যুর আগে এই বিষয়টি কি একবারও কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় এলো না? আরেকটি বিষয় হলো, নবজাতকদের জন্য বিশেষায়িত কক্ষগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকা দরকার। দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালটিতে এই সামান্য তদারকিও নেই।

এ ঘটনায় সরকারের তরফ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ছয় নবজাতকের মায়েদের সঙ্গে কথা বলে আগামী ৩ জুন প্রতিবেদন দেওয়া হবে। আমরা আশা করি, এই তদন্ত শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই শোকাবহ ঘটনার পেছনে কী কী কারণ রয়েছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে জনসমক্ষে আনা অত্যন্ত জরুরি।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার চিত্র এখানেই শেষ নয়। ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে বেকারির সন্ধান পেয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী বলেছেন, ‘হাসপাতালের নিচের ফ্লোরে বেকারি পাওয়া গেছে। দুই ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে চলে। ইঞ্জিনিয়ার নেই। এটা উচিত হয়নি। প্রচুর ময়লা পাওয়া গেছে। শক্তভাবে দেখা হবে বিষয়টা।’ আরো নিন্দনীয় ব্যাপার হলো, এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সংবাদকর্মীরা। জানা গেছে, বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। 

আমাদের দেশে হাসপাতালে আইসিইউ বা সিসিইউতে ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে মৃত্যু এটিই প্রথম নয়। এর আগেও নামকরা হাসপাতালে রোগী বা রোগীর স্বজনরা অব্যবস্থাপনার বলি হয়েছেন। সেসব ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়েছে। প্রতিবেদনও জমা পড়েছে। কিন্তু হতাশার দিক হলো, দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির খুব একটা নেই। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আমরা মনে করি, যাঁদের অবহেলার কারণে ছয় শিশুর মৃত্যু হলো, তাঁদের বিচারের আওতায় আনা দরকার। পাশাপাশি মৃত শিশুদের শোকসন্তপ্ত মা-বাবাকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সর্বোপরি দেশের হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

Read more — সম্পাদকীয়
Home