উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস: নারীর প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন

৮ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক নারী দিবস: নারীর প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ছিল আজ রোববার। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল– ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটি বিশ্বব্যাপী পরিক্রমা। সারা বিশ্বের নারীরা এ দিনটিকে ঘিরে সোচ্চার হয়। নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। দিবসটি স্মরণ করিয়ে দেয় লিঙ্গসমতার জন্য চলমান লড়াই ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অগ্রযাত্রার কথা। মূলত শ্রমিক আন্দোলন থেকে নারী দিবসের ধারণার উত্তরণ ঘটে। পরবর্তী সময়ে দিনটি জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়। ১৯১১ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়, যা তৎকালীন নারীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করে ছিনিয়ে এনেছিলেন। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের একটি সম্মেলনে নারী দিবসের ধারণা প্রস্তাব করা হয়। এভাবে কালের পরিক্রমায় পথ চলতে চলতে নারীরা তাদের দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস তারই এক মূর্তপ্রতীক। আগামী দিনগুলোতে নারীর সুস্থ সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তার জন্যই বিশ্বের নারী ও মানবাধিকারকর্মীরা এখনো দিনটি পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। নারী দিবসকে ঘিরে বিশ্ব সোচ্চার হয়েছে। বাংলাদেশও সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন সভা, সেমিনার কর্মসূচির মাধ্যমে এ দেশের নারীরা দিনটি নানাভাবে উদযাপন করছে।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সরকার টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন তথা সর্বোপরি দেশের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সব ক্ষেত্রে নারীদের সুযোগের সমতা সৃষ্টি করতে কাজ করছে। নারীর অগ্রযাত্রায় এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু সম্প্রতি আমরা লক্ষ করেছি দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা সামাজিক অস্থিরতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টিকে দায়ী করছেন। নারী ও শিশুরা একের পর এক নৃশংসতার শিকার হচ্ছে। কখনো ধর্ষণ বা ধর্ষণের পর লাশ গুম করার নানা অপচেষ্টা করছে অপরাধীরা। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের পর গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার সাত বছরের শিশু ইরার করুণ মৃত্যু সাধারণ বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আসলে কি আমরা সভ্য সমাজে বাস করছি! সারা দেশে এ রকম অসংখ্য অস্বাভাবিক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এ ধরনের অপরাধ যেমন–ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা নির্যাতন ও হত্যার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি নারী-শিশুর আত্মহত্যার উচ্চহার সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারহীনতার গভীর সংকট নির্দেশ করে। এ দেশে বিলম্ব বিচারের সংস্কৃতি পুরো সমাজকে নষ্ট হতে সহায়ক করে তুলেছে। বিলম্ব বিচার নিয়ে William E. Gladstone যথার্থই বলেছিলেন, Justice delayed is justice denied, অর্থাৎ বিলম্বিত বিচার ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এ অবস্থায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীরা লড়াই চালিয়ে গেলেও আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীরা বঞ্চিত, অবহেলিত, নিগৃহীত। নারীদের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গেই বৈষম্য দানা বেঁধে আছে। পথে-ঘাটে নারীদের অপমান-অপদস্থের শিকার হতে হচ্ছে। এ ছাড়া সাইবার বুলিংয়েরও শিকার হচ্ছে নারীরা। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা লক্ষ করেছি মব সন্ত্রাসের কালো থাবা। সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার পরও মবের দৌরাত্ম্য থেমে নেই।

এত কিছুর পরও নারীরা প্রতিনিয়ত শত বাধা অতিক্রম করে সমাজের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্তরায়। গত কয়েক দশকে সমাজের সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপের ফলে নারীরা এখন অনেক অগ্রগামী। তাই আসুন, আগামীর জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নারীর প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি। নারী ও কন্যার অধিকার সুরক্ষায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য জোর আওয়াজ তুলি। দিবসটি উপলক্ষে পৃথিবীর সব নারীর প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

 

Read more — সম্পাদকীয়
Home