উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

পেট্রলপাম্পে দীর্ঘ লাইন: ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ণ
পেট্রলপাম্পে দীর্ঘ লাইন: ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। সম্ভাব্য তেলসংকটের আতঙ্কে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে ভিড় করছেন যানবাহনচালকরা। তারা দীর্ঘ লাইন ধরে বেশি বেশি জ্বালানি তেল কিনছেন। এতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেছে, যা মজুত কমিয়ে দিচ্ছে। গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালাতে ব্যবহার করা হয় অকটেন। আবার পেট্রল দিয়েও যানবাহন চলে। বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, অকটেনের ৫০ শতাংশ এবং পেট্রলের শতভাগ দেশেই উৎপাদিত হয়। তাই পেট্রল ও অকটেন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি। এদিকে জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে যে পেনিক কাজ করছে, তার কোনো যুক্তি নেই। তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে সরকার।

বিপিসির তথ্যমতে, দেশে পেট্রলের দৈনিক চাহিদা ১ হাজার ৩০০ টনের আশপাশে। তবে দেশে ১ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত হিসাবে দৈনিক চাহিদা ছাড়িয়েছে ২ হাজার ৩০০ টন। বিপিসির হিসাবে, এ মাসে দেশের সরকারি-বেসরকারি শোধনাগার থেকে পেট্রল ও অকটেন মিলিয়ে ৪০ হাজার টন সরবরাহ আসতে পারে। তাই আপাতত মজুত শেষ হওয়ার আশঙ্কা নেই। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং আমদানি করা না গেলে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করে পেট্রল, ডিজেল, ফার্নেসসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করে ইআরএল। এই অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয় সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে। যুদ্ধের কারণে বর্তমানে তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে দেড় লাখ টন। দিনে তাদের শোধনসক্ষমতা গড়ে ৪ হাজার টন।

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। বাড়তি দামেই জ্বালানি তেল কিনছে সরকার। পাশাপাশি সংকট মেটাতে বাড়তি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও কিনতে হচ্ছে সরকারকে। যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, সে ক্ষেত্রে দেশে আমদানি ব্যাহত হলে সংকট প্রকট হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা নিয়েছে সরকার।

সরেজমিন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় পাম্পে পাম্পে ভিড়,  সেই সঙ্গে সীমিত তেল নিতে যানবাহনচালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সীমিত তেল নিতে চালকদের বিভিন্ন ভোগান্তিতেও পড়তে হচ্ছে। ঝিনাইদহ শহরে জ্বালানি তেলের মাপ নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে নীরব হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীতে তেলসংকটের গুঞ্জনে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশি পাহারায় তেল বিক্রি করা হচ্ছে। রংপুরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। কিছু কিছু জেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সরকার জ্বালানি তেলের অপচয় ও পাচার রোধে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মজুত বেশি দিন চালিয়ে নিতে সরকারের এ যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।

বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা মাথায় নিয়ে সরকার জ্বালানিসংকটের আগাম সুরাহার ব্যবস্থা নিয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এর পরও কিছু যানবাহনচালক ও কিছু কালোবাজারি অতিরিক্ত জ্বালানি তেল মজুত করে দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এ অবস্থায় নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জ্বালানি তেল নিয়ে আপাতত আতঙ্কের কিছু নেই, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করছি, সরকার পেট্রলপাম্পের জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

 

Read more — সম্পাদকীয়
Home