উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাকসুর কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

শিবির ও আম্মার
রাবি প্রতিবেদক ৩ মে ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
 রাকসুর কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার - সংগৃহীত

 

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (রাকসু) স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে বিজয়ী জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও শিবির প্যানেল থেকে বিজয়ী ভিপিসহ একাধিক নেতাদের  মধ্যে কর্মসূচি আয়োজন ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরাম হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে একটি গণমাধ্যমে দেওয়া জিএসের বক্তব্যের পরে এ ঘটনার শুরু হয়।

জিএস সালাউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেন, পরিষদের অধিকাংশ সদস্য শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় ভিন্ন প্যানেলের প্রতিনিধিদের মতামত যথাযথ গুরুত্ব পায় না। তিনি বলেন, ‘আমিসহ তিনজন ভিন্ন প্যানেলের হওয়ায় আমাদের মতামত স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণযোগ্য হয় না। অনেক সময় সম্পাদকরা ভিপির সংশ্লিষ্টতায় প্রোগ্রাম আয়োজন ও অতিথি নির্বাচন করে থাকেন।’

এ বিষয়ে নিজের পোস্টে হোয়াটসঅ্যাপের ‘টপ থ্রি’ নামের একটি গ্রুপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামনের আনেন তিনি। সেখানে দেখা যায়, গত ৪ এপ্রিলে আম্মার গত ৬ এপ্রিল রাকসু আয়োজিত আইনজীবী শিশির মনির ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের অংশ নেওয়া ‘বিতর্কিত’ সেমিনারের পোস্টার শেয়ার করে লিখেন, একবার জানানো উচিত না? একটাবার মতামত নেওয়ার দরকার নাই?’

এ ছাড়াও ওই অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের জন্য জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এবং শিবির-সমর্থিত প্যানেলের পরাজিত জিএস (বর্তমানে সিনেট সদস্য) ফাহিম রেজার নাম ছিল। এ বিষয়টিকে তিনি পরাজিত প্রার্থীর সঙ্গে একই ফ্লোরে বক্তব্য দিতে হবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি বলে জানান আম্মার।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জিএসের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিবির-সমর্থিত প্যানেলের বাইরে থাকা সদস্যদের মতামত উপেক্ষার কোনো নির্দিষ্ট উদাহরণ জিএস দিতে পারেননি; বরং তার ইশতেহার বাস্তবায়নে সবাই সহযোগিতা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভিপির কনসার্নে নাকি প্রোগ্রাম আয়োজন ও অতিথি নির্বাচন করে থাকি। এটাও ভিত্তিহীন ও খাপছাড়া কথা বলল। ভিপি-জিএস-এর উপস্থিতিতে রাকসু সভাপতির অনুমতিতে সম্পাদকগণ তাদের অ্যাজেন্ডা পাস করিয়ে নেয়। পরবর্তীকালে, সম্পাদকগণ নিজের ইচ্ছেমতো প্রোগ্রাম অ্যারেঞ্জ করে থাকে, যেখানে আমাকে ও আম্মারকে অতিথি বা আলোচক হিশেবে আমন্ত্রণ করে থাকে। এভাবেই রাকসু ফাংশন করছে। এটাই এখনকার রাকসুর প্রতিষ্ঠিত নিয়ম। অথচ, আম্মার বলল ভিপির কনসার্নে প্রোগ্রাম ও অতিথি নির্বাচন হয়। এটা বাজারি কথা ছাড়া আর কিছুই না।’

ভিপি জাহিদ আরও বলেন, ‘রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক বিভাগ থেকে গণভোট নিয়ে যে সেমিনার হয়েছে, সেখানে সে নাকি ইচ্ছা করেই উপস্থিত হয় না। অথচ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছে। মিডিয়ায় এক কথা, রাকসু অধিবেশনে আরেক কথা এটা রাকসুর প্রতিনিধির বক্তব্য হতে পারে না।’

জিএসের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ নিয়ে ভিপি জাহিদ বলেন,‘সালাউদ্দিন আম্মার অতীতেও এমনটা করেছে। তখন জবাব দেইনি। জবাব দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করিনি। কিন্তু সে দিনদিন লাগামহীন ভুলভাল কথা বলছে, যা মিথ্যা অপবাদতুল্য। সালাউদ্দিন আম্মারের অবহেলাজনিত কাজের ফিরিস্তি অনেক বড়। সে কথা বলা শুরু করলে, শেষ হবে না। সালাউদ্দিন আম্মার যেভাবে মিডিয়ায় বানোয়াট, অপতথ্য ও মনগড়া কথা দিয়ে সরব, সেভাবে যদি রাকসুর কাজে মনোযোগ দিতো তাহলে রাকসুর সম্পাদকদের কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যেত।’

রাকসুর জিএসের অভিযোগ নাকচ করে শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত রাকসুর সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হোসেন জোহা তিনি বলেন, ‘নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে জিএস অন্যদের দোষারোপ করছেন। তার স্বেচ্ছাচারিতার বিরোধিতা করলেই সেটাকে তিনি নিজের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখান।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিএস এখন জাতীয় রাজনীতি নিয়ে মুখিয়ে আছে। তাই ক্যাম্পাসের ব্যাপার তাকে গুটিয়ে ফেলতে হবে। আর সেটার প্রথম চাল এটাই যে নিজেকে মাইনাস প্লেয়ার হিসেবে উপস্থাপন করবে। এছাড়া সে নিজেও অনেকদিন আলোচনার বাইরে আছে। আলোচনায় আসাটাও খুব জরুরি। তা নাহলে প্রায় একমাস আগের একটা আয়োজনের ইস্যু টেনে মিডিয়ায় এমন বক্তব্য দেওয়ার কোনো কারণই দেখি না।’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে শিবির-সমর্থিত প্যানেল। নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ভিপি-এজিএস সহ ২০টিতেই জয় পেয়েছে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি তিনটি পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র ও ছাত্রদলের প্রার্থীরা।

 

ইএফ/

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home