
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আলোচিত মনোয়ার হোসেন বাবু হত্যা মামলায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামসুল আল-আমীন এ রায় প্রদান করেন।
মামলাটিতে হুইপ দুলুসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি আসামি ছিলেন। আসামিদের তালিকায় ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রয়াত সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফা।
এছাড়া জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কয়েকজনের নামও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের মধ্যে জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড বাগমারার মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে ‘কিলার মোস্তাক’, এবং সংগঠনটির সদস্য মাহাতাব খামারু ও আবদুল মতিন ওরফে ‘বোমারু মতিন’-এর নাম উল্লেখযোগ্য।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল ‘সর্বহারা নিধন’-এর নামে ৩০ বছর বয়সী মনোয়ার হোসেন বাবুকে বাগমারার একটি মাঠ থেকে ধাওয়া করে ধরে পলাশি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ‘বাংলাভাই জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে হামিরকুৎসা গ্রামের জেএমবি ক্যাম্পের দিকে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর নিহতের বাবা মহসিন আলী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আদালতের পেশকার মো. সাহাবুদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারাধীন অবস্থায় ছয়জন আসামির মৃত্যু হয়। অবশিষ্ট ৪৪ জনের মধ্যে ১২ জন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এবং ৩২ জন নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৩০ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। তবে হুইপ দুলু ও শাহাদ আলী নামের একজন আসামি অনুপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রইসুল ইসলাম জানান, মামলাটিতে প্রথমে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল। পরে ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপির প্রভাবশালী নেতাসহ অন্যান্যদের আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তিনি দাবি করেন, বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও কেউই আসামিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে আদালত সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন, যা তিনি সঠিক রায় বলে মন্তব্য করেন।
ইএফ/

