
অফিসের কোনো প্রয়োজন না থাকলেও ভুয়া সরকারি চাহিদা দেখিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মী। পরে নেওয়া তেল ফেরত দিয়ে সতর্কবার্তা নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার হাবিব ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কর্মীরা নিজেদের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের জন্য কৌশলে পেট্রোল ও অকটেন নিতে গিয়েছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের তিরস্কার করা হয়। পুলিশও তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফায়ার সার্ভিসের নওহাটা স্টেশনের সেকেন্ড অফিসার রবিউল আলমসহ চারজন একটি সরকারি গাড়িতে ড্রাম ও ব্যারেল নিয়ে ফিলিং স্টেশনে যান। এ সময় রবিউল আলমের স্বাক্ষর করা একটি চাহিদাপত্র দেখিয়ে প্রথমে ২০০ লিটার পেট্রোল নেওয়া হয়। পরে আরও ১০০ লিটার অকটেন নেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে ফিলিং স্টেশনের ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়, অফিসের কোনো অনুমোদিত চাহিদা নেই। এ অবস্থায় দেওয়া তেল তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত নেওয়া হয়।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারী বলেন, 'এ ধরনের কাজ যেন আর না করা হয়, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের কোনো তেল দেওয়া হয়নি।'
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রবিউল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের নওহাটা স্টেশনের ইনচার্জ ওয়ারহাউস ইন্সপেক্টর নিরঞ্জন সরকার বলেন, 'দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অফিসের চাহিদা দেখিয়ে তেল নিতে গিয়েছিলেন। এটি নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি জানার পর তাদের সতর্ক করা হয়েছে।'
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'সরকারি গাড়ির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার না করার নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তেল নিতে গিয়ে তারা অনিয়ম করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

