
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর উপর নির্মিত সেতুতে মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন টোলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার দলটির একটি প্রতিনিধি দল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানান। যদিও সওজ কর্তৃপক্ষ বলছে, আপাতত সেতুটি টোলমুক্ত করার সুযোগ নেই। জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন- সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের নির্দেশনায় জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল জেলা সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক লতিফুর রহমান। আরও ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার আমীর আব্দুল আলীম, পৌরসভা শাখার আমীর গোলাম রাব্বানী, সেক্রেটারি তোহরুল ইসলাম সোহেলসহ অন্যরা।
সাক্ষাৎ শেষে লতিফুর রহমান বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলেছি জনগণের জন্য এই দেশ, জনগণের জন্য সেতু। তাই জনগণের সুবিধা দেখতে হবে। মোটরসাইকেল, ব্যাটারি চালিত রিকশা এবং ভ্যান টোলমুক্ত রাখতে হবে। সেতুটি আগামী টেন্ডারের আগেই যেন ভ্যান রিকশা, মোটরসাইকেল টোলমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয় সেই অনুরোধ করেছি। এবং জনস্বার্থে এটা হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিনুর রহমানের বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের তিনটি সেতু আছে মহানন্দা নদীর উপর। এরমধ্যে তাঁরা মহানন্দা নদীর রেহাইচর থেকে বারঘোরিয়া সেতুটি টোলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু আপাতত এটি সম্ভব নয়, কারণ ২০১৪ সালের সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী এই সেতুতে টোল আদায় করা হচ্ছে। ওই গেজেট অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০০ মিটরের অধিক দৈর্ঘ্যের সেতুতে টোল আদায় করা বাধ্যতামূলক। সারদেশেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ টোল একই গেজেট অনুযায়ী আদায় করে। দেশের কোথাও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সেতু (২০০ মিটারের অধিক দৈর্ঘ্যের) টোলমুক্ত করার নজির নেই। কাজেই নতুন গেজেট ছাড়া মহানন্দা সেতুতে টোল আদায় বন্ধ বা পূনঃনির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
তবে প্রায় ৬ মাস আগে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তখনকার জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে সব পক্ষের সঙ্গে একটি সভা করে সওজ। সেখানে টোলমুক্ত করার যেসব প্রস্তাব উঠে আসে তা রেজ্যুলেশন আকারে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যদিও এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, অনেকে আমাদের বলেন সেতুটি নির্মাণ করা অনেক বছর হয়ে গেলো। এত বছরে যে পরিমাণ টোল আদায় করা হয়েছে তা সেতু নির্মাণে ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি। বিষয় আসলে সেটা নয় যে, সেতুর নির্মাণ খরচ উঠে গেলে টোল আদায় বন্ধ করে দিতে হবে। বরং এটি সরকারের রাজস্ব আহরণের একটি মাধ্যম। এখান থেকে আদায় হওয়া রাজস্ব আরও সড়ক ও সেতু নির্মাণে ব্যয় করা হয়।
ইএফ/

