উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ঈদকে ঘিরে সরগরম রাজশাহীর জুতার বাজার

উত্তরা প্রতিদিন ইবতিদা ফেরদৌস ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ণ
ঈদকে ঘিরে সরগরম রাজশাহীর জুতার বাজার
নগরীর প্রায় সব জুতার দোকানে এই ভাবেই জমে উঠেছে রাজশাহীর জুতা বাজার - উত্তরা প্রতিদিন

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজশাহীর জুতার বাজার। বিশেষ করে নগরীর সাহেববাজার এলাকার জুতা পট্টিতে প্রতিদিনই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদের নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা কিনতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সরেজমিনে সাহেব বাজারের জুতাপট্টি ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় অসংখ্য দোকানে চলছে জমজমাট কেনাবেচা। দোকান গুলোতে পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য নানা ধরনের ডিজাইন এবং দামের জুতা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বাটা, এপেক্স, স্টেপসহ বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ডের শোরুমেও ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি প্রতিদিনই বাড়ছে।

জুতা পট্টির দোকানগুলোতে সর্বনিম্ন প্রায় ২০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৫ হাজার টাকা দামের জুতা বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্যান্ডেল ও সাধারণ জুতা যেমন রয়েছে, তেমনি মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ব্র্যান্ডেড ও উন্নত মানের জুতা।

সাহেববাজারে জুতা কিনতে আসা ক্রেতা রাশিদুল ইসলাম বলেন, ঈদে নতুন পোশাকের সঙ্গে নতুন জুতা না হলে যেন আনন্দটাই অসম্পূর্ণ লাগে। তাই নিজের জন্য একটি জুতা কিনতে এসেছি। তবে আগের তুলনায় এবার দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমি আমার দুই সন্তানের জন্য জুতা কিনতে এসেছি। ঈদের সময়ে বাচ্চাদের জন্য নতুন জুতা না কিনলে তারা খুব কষ্ট পায়। তবে জুতার দাম বেশি মনে হচ্ছে। কিন্তু ঈদের সময়ে দাম বেশি হলেও পরিবারের সবার জন্যই কিছু না কিছু নিতে হবে।

ক্রেতা মাহমুদুল হাসান জানান, ঈদের আগে বাজারে অনেক ভিড়। বিভিন্ন দোকান ঘুরে পছন্দের জুতা খুঁজে নিতে হচ্ছে। যেগুলো জুতা পছন্দ হয় একদিন দেরি করলেও সেই জুতা আর পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ব্র্যান্ডের জুতাগুলোর স্টক শেষ হয়ে গেলে তা আর পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময়ে জুতার বাজারে এমন ভিড় স্বাভাবিক ঘটনা। জুতা পট্টির এক বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, ঈদের আগে আমাদের দোকানে প্রচুর ক্রেতা আসে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের জুতা অনেক সময় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আরেক বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকেই মনে করছেন দাম বেড়েছে, কিন্তু ঈদের সময়ে সাধারণত এমনই দাম থাকে। বিভিন্ন কোম্পানির জুতার দাম নির্ধারিত থাকে, তাই আমরা খুব বেশি কমাতেও পারি না।

বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগের কয়েক দিন জুতার বাজারে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। তাই অনেক ক্রেতাই আগে থেকেই পছন্দের জুতা কিনে নিচ্ছেন, যাতে শেষ মুহূর্তে এসে পছন্দের জুতা না পাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।

স্টেপ শোরুমের কর্মচারি সোহেল রানা বলেন, এবার বিক্রি মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। বিশেষ করে ভালোমানের জুতাগুলো দোকানে আসার পর অল্প সময়েই শেষ হয়ে যাচ্ছে। নির্দষ্ট ধরনের জুতা শেষ হওয়ায় আমরা সবার কাছে সব জুতা পৌছাতে পারছি না। ঈদের যত দিন ঘনিয়ে আসবে, ক্রেতার চাপ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

ইএফ/

 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home