
পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার বিভিন্ন বাজারের দর্জিপাড়ায় এখন দম ফেলার সময় নেই। দিন-রাত এক করে ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী নতুন পোশাক তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি ও পোশাক কারিগররা। কাজের চাপ এতটাই বেড়েছে যে, ইতোমধ্যেই অনেক দর্জি দোকানে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
সলঙ্গা থানাসদরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, পছন্দের পোশাক তৈরির জন্য দর্জিদের দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে দর্জিরা এখন ব্যস্ত সালোয়ার-কামিজ, থ্রি-পিস, পায়জামা-পাঞ্জাবি এবং শিশুদের বিভিন্ন পোশাক তৈরিতে। দোকানগুলোতে গরগর শব্দে প্রায় অবিরাম চলছে সেলাই মেশিন।
সলঙ্গা বাজারের বরাদ আলী সুপার মার্কেটের মক্কা টেইলার্সের মালিক নুরুল ইসলাম জানান, রোজার শুরু থেকেই এ বছর পাঞ্জাবির অর্ডার অনেক বেশি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে কর্মচারীদের নিয়ে টানা কাজ করতে হচ্ছে।
অপরদিকে মদিনা টেইলার্সের মালিক আব্দুল বাতেন বলেন, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মার্কেট জমজমাট হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ব্যস্ততাও অনেক বেড়েছে।
মক্কা টেইলার্সের দর্জি কারিগর হাফেজ মাহমুদুল হাসান (সৌরভ), সজীব সরকার, রুহুল আমিন, রাকিবুল ইসলাম ও আসলাম খান জানান, সারা বছরের আয়ের একটি বড় অংশই তারা রমজানের ঈদের পোশাক সেলাই করে পান। তাই ঈদকে ঘিরে এই সময়টা তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে নারী দর্জিরাও পিছিয়ে নেই। বিথী লেডিস টেইলার্সের মালিক শহিদুল ইসলাম (ফুলজোড়) জানান, এ বছর মেয়েদের পোশাকের অর্ডার খুবই ভালো পেয়েছেন। সালোয়ার-কামিজ ও বোরকার কাজের চাপ এত বেশি যে নতুন অর্ডার নেওয়া ইতোমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে।
তার দোকানের নারী দর্জি সাথী খাতুন বলেন, ঈদ ছাড়াও সারা বছরই মেয়েদের পোশাক তৈরির কাজের চাপ বেশি থাকে। তবে গত বছরের ঈদের তুলনায় এবার অর্ডার আরও বেশি। আশা করছি, সব অর্ডার যথাসময়ে গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।
কদমতলা এলাকার বগুড়া টেইলার্সের মালিক জোতি জানান, তাদের দোকানের কর্মচারীরা প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০টি পোশাক সেলাই করছেন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন একজন দর্জি বা কারিগর ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
মোহাম্মদ আলী সুপার মার্কেটের মোহনা টেইলার্সের মালিক বলেন, শেষ মুহূর্তের অর্ডার সামলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তাই নতুন করে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়।
তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও টেইলার্স মালিক ও দর্জি কারিগররা আশাবাদী-ঈদের মৌসুমে ভালো আয় হলে পরিবারের সঙ্গে আনন্দমুখরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন তারা।
ইএফ/

