
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কাঁচুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ সকল শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ ও জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়েরের পর ফের এমপিওভুক্তি কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে রাজশাহীর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি।
লিখিত আবেদনে শহিদুল ইসলাম নিজেকে কাঁচুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বৈধ প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন। বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সরকারি এমপিওভুক্তি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আবেদন করেন শহিদুল ইসলাম।
গত ৫ মার্চ বুধবার ওই বিদ্যালয়ের বৈধ প্রধান শিক্ষক দাবি করে শহীদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। লিখিত আবেদনের অনুলিপি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও পৌঁছানো হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পৌর এলাকার কাঁচুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অবৈধতার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ১০৭/২০২৫। গত বছরের ৪ নভেম্বর রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার সহকারী জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, সিভিল কার্যবিধি (ঈড়ফব ড়ভ ঈরারষ চৎড়পবফঁৎব, ১৯০৮) অনুযায়ী, বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বা এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া আদালত অবমাননার শামিল। প্রশাসনিক কোন কার্যক্রম নেয়া হলে তা বিজ্ঞ আদালতের বিচারকার্য বা সম্ভাব্য রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এমনটিও দাবি করা হয় লিখিত অভিযোগে। এর কারণে বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হলে পরবর্তীতে প্রশাসনিক জটিলতা ও আইনি বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই অবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাঁচুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য সকল সহকারী শিক্ষকদের সরকারি এমপিওভুক্তি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন শহিদুল ইসলাম।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) লায়লা আক্তার জাহান বলেন, কাঁচুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়ে একটি আবেদন তিনি পেয়েছেন। তবে আদালত থেকে তিনি কোন আদেশ বা নির্দেশনা পাননি বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বা বিচারাধীন রয়েছে বিধায় আগেই এই বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে এবং কোনো অনিয়ম বা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইএফ/

