
নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রভাবশালীদের অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের ফলে পাড় ভেঙে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়ক। উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কেঁচুয়াকোড়া এলাকায় রাজ্জাক সরকারের বাড়ি থেকে কারবালা ইক্ষু সেন্টার অভিমুখী সড়কের পাশে অবস্থিত ১০-১৫ বিঘার একটি পুকুর এ জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ও একাধিক প্রতিবাদ সত্ত্বেও দীর্ঘদিনেও কোনো সমাধান হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ বছর আগে এলাকাবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করে নিয়মবহির্ভূতভাবে মূল সড়কের পাশ ঘেঁষে প্রায় ২০ ফুট গভীর করে পুকুরটি খনন করেন স্থানীয় জোয়াড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ-এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সরকার। অভিযোগ রয়েছে, সড়কের দিকের পাড় সুরক্ষিত না করেই খননকাজ শেষ করা হয়। ফলে ওই বছরের বর্ষা মৌসুম থেকেই সড়কটি ধসে পুকুরে পড়তে শুরু করে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পুকুর মালিককে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রতিবাদকারীদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের ভূমিকাও নীরব বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় শিক্ষক রাজু আহমেদ বলেন, “এটি একটি জনবহুল ও ব্যস্ত সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন। ভ্যান, রিকশা, গরুর গাড়ি, মহিষের গাড়িসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। ভাঙা অংশের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সংস্কার ও পুকুরের পাড় বাঁধাই না হলে পুরো সড়কটি একসময় পুকুরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুকুর মালিক আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, “আমি নিয়ম মেনেই পুকুর খনন করেছি। পরে এমন পরিস্থিতি হবে তা ভাবিনি। এখন আমার পক্ষে রাস্তাটি বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, “শুনেছি সড়কটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মজবুতভাবে সাইড প্রোটেকশন দিলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “এ বিষয়ে অনেকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” এদিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

