
নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় বহুল প্রত্যাশিত ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। গত সোমবার দুপুরে তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় পরিদর্শন করে চলমান ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই বাছাই ও ডাটা সংরক্ষণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের ভুল বা অনিয়ম যাতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
এরপর তিনি পাইলটিং এলাকা ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকায় গিয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ও বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। বিভাগীয় কমিশনার তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সরকারের এ উদ্যোগের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আবুল হায়াত, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবীর হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাজমুল খাঁসহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
লালপুর উপজেলা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় ঈশ্বরদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ৮১৬টি খানার জরিপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সংগৃহীত তথ্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী ১০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডের এই পাইলটিং কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এটি বৃহত্তর পরিসরে সম্প্রসারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ইএফ/

