
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে একজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ সোমবার ভোররাতে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের চকপলাশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. শাহীন (৫৫)। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। আর আহত সাতজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে গণপিটুনিতে এক ‘ডাকাত’ নিহতের ঘটনায় গ্রামের ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আরও একটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দায়ের করা দুটি মামলাই পুলিশ বাদী হয়ে করেছে।
গণপিটুনিতে আহতরা হলেন-পুঠিয়ার চকপলাশি গ্রামের মো. শামীম (৩৫), ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী এলাকার মো. শফিকুল (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকার ধামরাইয়ের নানজেগুড়ি গ্রামের মো. খারজাহান (৩৫), টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বামালের চর গ্রামের সেলিম শেখ (৩০), একই উপজেলার কুটিবয়রা গ্রামের মো. মামুন (৪২) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মো. রূপচান (৩০)।
পুলিশ জানায়, রাত দেড়টার দিকে একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলটি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় এলাকাবাসী তাদের আটক করে। পরে তাদের বেঁধে মারধর করা হয় এবং ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়। এ সময় ট্রাকটিতে আগুন দেওয়া হয়।
রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশীদ একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় চিকিৎসাধীন সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া গণপিটুনিতে শাহীনের মৃত্যুর ঘটনায় এসআই মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এতে অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে নিহত শাহীনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

