উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

সারিয়াকান্দিতে কিনোয়া চাষে সাফল্য

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সারিয়াকান্দিতে কিনোয়া চাষে সাফল্য

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল হান্নান পরীক্ষামূলকভাবে দক্ষিণ আমেরিকান আন্দিজ অঞ্চলের সুপার ফুড কিনোয়া চাষ করে সফল হয়েছেন। ভাতের বিকল্প হিসেবে নিজে খাওয়ার জন্য চাষ করলেও বাজারে উচ্চমূল্য থাকায় আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার স্বপ্ন দেখছেন। উপজেলার মাটিতে প্রথমবারের মতো কিনোয়া চাষে সফলতা দেখে গ্রামের অনেকেই এটি চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার দেলুয়াবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল হান্নান। তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করছেন। বয়সের ভারে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে। ভাত খাওয়ার পরিবর্তে তিনি আমেরিকান সুপার ফুড কিনোয়া খাওয়া শুরু করেন। যা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বেশকিছু রোগ নির্মূলে বেশ উপকারী। এটি তিনি ঢাকার বিভিন্ন সুপার সপ থেকে অতি উচ্চমূল্যে সংগ্রহ করতেন-যা প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। দাম বেশি হওয়ায় তিনি এটি চাষ কারার উদ্যোগ নেন। ইউটিউব দেখে তিনি এর চাষপদ্ধতি জানেন। এরপর তার বাড়ির পাশের ১২ শতাংশ জমিতে কিনোয়া চাষ করেন। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করলেও তিনি সফল হয়েছেন। দু’মাস আগে বপন করা কিনোয়ার গাছগুলো বেশ বড় হয়েছে এবং এর বীজও পরিপক্ব হয়েছে। তিনি এখন জমি থেকে তা উত্তোলন শুরু করেছেন।

তিনি আশা করছেন, তার ১২ শতাংশ জমিতে প্রায় ৭০ কেজির মতো কিনোয়ার উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য এক হাজার টাকা করে কেজি হলেও ৭০ হাজার টাকা। তিনি জানান, ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘা জমিতে সাত থেকে আট মন কিনোয়া উৎপন্ন হওয়া সম্ভব। আমেরিকাসহ বেশ কিছু দেশের মানুষ কিনোয়া খেতে খুবই অভ্যস্ত।

সাধারণত যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ধরনের রোগে ভোগেন বা যাদের জন্য ভাত খাওয়া নিষেধ রয়েছে তারা কিনোয়া খেতে পারেন। এটি সাধারণত বোরো ও আমন ধানের মাঝামাঝি সময়ে জমি যখন পতিত থাকে, তখন চাষ করা যায়।

আবদুল হান্নান বলেন, এ বছর খাওয়ার জন্য মাত্র ১২ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ করেছিলাম। আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে করার পরিকল্পনা করছি। আমার চাষ দেখে এবং বাজারে ভালো দামের কথা শুনে অনেকেই কিনোয়ার বীজ চেয়েছেন। তারাও আগামী বছর চাষ করবেন। এটি ভাতের মতো বা পায়েশ করেও খাওয়া যায়।

দেলুয়বাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, হান্নান ভাইয়ের কিনোয়া চাষ আমার খুবই ভালো লেগেছে। বাজারে যেহেতু প্রতি মন কিনোয়া ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই আগামী বছর আমি কিনোয়া আবাদের পরিকল্পনা করেছি।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, এটি একটি লাভজনক ফসল এবং এ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে। আশা করা যায় এর আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। কিনোয়া একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর গ্লুটেনমুক্ত সুপারফুড, যা উচ্চ প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ। এটি ওজন কমাতে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। উচ্চ ফাইবারযুক্ত হওয়ায় কিনোয়া দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। যা ক্ষুধা কমায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, নিরামিষভোজিদের জন্য এটি প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। এতে থাকা ৯টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড টিস্যু বৃদ্ধিতে সহায়ক।

 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home