
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেলবাহী চারটি ওয়াগন লাইনচ্যুতের প্রায় ১০ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় তেলবাহী বগিগুলো উদ্ধার করা হলে নাচোল-গোমস্তাপুরে রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা স্টেশনে তেলবাহী একটি ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে রাজশাহীর সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
আমনুরা জংশন রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভোর ৬টার দিকে আমনুরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ট্রেনটির ৩০টি তেলবাহী ওয়াগনের মধ্যে চারটি লাইনচ্যুত হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বগিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে নাচোল-গোমস্তাপুর উপজেলার সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেললাইনের সমস্যার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, আমনুরা স্টেশনের সাত নম্বর লাইনে এই ঘটনা ঘটে। এতে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের মধ্যে চলাচল করা কমিউটার রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়ে আছে। পরবর্তী সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে খুলনার মধ্যে চলাচল করা মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সকালে রাজশাহীতে ছেড়ে আসা লোকাল ট্রেন চাপাইনবয়াবগঞ্জে রয়েছে। ট্রেনের বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় এই দুই জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে বিকল্প উপায়ে বাস ও সিএনজিতে চলাচল করছে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীরা।
ট্রেনের ওয়াগন লাইনচ্যুতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রীরা। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সজিব ও সাইদুর রহমান নামের দুই যাত্রী বলেন, মাঝেমধ্যেই আমনুরায় ট্রেনের বগি বা ওয়াগন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে। গত ২৪ জানুয়ারি একই স্থানে বগি লাইনচ্যুত হয়। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঠিকঠাক নজর দেয় না। এ নিয়ে তাদের উদাসীনতা রয়েছে। ট্রেন বন্ধ থাকলে অনেক মানুষকে বাসে যাতায়াত করতে হয়। ফলে সময় ও খরচ বাড়ে। একই সঙ্গে বাড়ে ভোগান্তিও। যাদের বাড়ি রেলস্টেশন এলাকায়, সেখান থেকে তাকে আবার সড়ক পথের জায়গায় যেতে হবে তারপরে সেখান থেকে বাসে উঠতে হবে। এ নিয়ে এক ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি ট্রেন বিলম্ব রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী-খুলনার মধ্যে চলাচল করা মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জানুয়ারি একই স্থানে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছিল। পরে সাড়ে ৭ ঘণ্টা চেষ্টার পর রহনপুর-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল।
ইএফ/

