
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় নিমপাড়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক বিরাজ আলী (৪৭) দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন। আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গোরস্থান এলাকায় তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। ভুক্তভোগীর সন্দেহ, জামায়াত-শিবিরের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে।
বিরাজ আলী রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আমীর মোল্লার ছেলে। আসন্ন নির্বাচনে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরাজ আলী মাঠে গরুর জন্য ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন। মাঠ থেকে রামচন্দ্রপুর গোরস্থান এলাকায় কালুহাটি-আড়ানী সড়কে ওঠার সময় হেলমেট পরিহিত এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, বিরাজ আলীর দুই পায়ে হাঁটুর নিচে এবং দুই হাতে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। তার একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
বিরাজের বড় ভাই আব্দুল মজিদ জানান, ঘাস কেটে ফেরার পথে এক ব্যক্তি এসে তার ভাইকে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা হামলাকারীকে ধরার চেষ্টা করলেও তিনি পালিয়ে যান। হামলাকারীর মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট ও পোশাক কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিরাজের দ্বন্দ্ব ছিল না। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও কোনো বিরোধের বিষয় তাদের জানা নেই।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বিরাজ আলী বলেন, ঘটনার ব্যাপারে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। ঘাস কেটে সাইকেল নিয়ে ফিরছিলাম। একজনকে দেখে মনে হয়েছে তিনি জামায়াত-শিবিরের লোক। হেলমেট পরা ছিল। প্রথমে মনে করেছি খালি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। কাছে যেতেই হঠাৎ সাইকেলের ওপর আঘাত করে। আমি পড়ে যাই। এরপর এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। ঠেকাতে গিয়ে হাতে জখম হয়। পরে পায়ে কোপ দেয়। লোকজন এগিয়ে এলে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আইয়ুব আলী বলেন, 'বিরাজ ভালো ও নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ হিসেবে পরিচিত। মুখ বেঁধে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শুনেছি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনোভাবেই এতে জড়িত নয়। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। আমরা প্রশাসনকে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছি।'
চারঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একই এলাকার বাসিন্দা শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, বিরাজ কৃষকদলের নেতা। স্থানীয়ভাবে বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের কথা জানা নেই। তবে হামলাকারী একই গ্রামের বাসিন্দা হতে পারেন বলে ধারণা করছি।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কোনো উত্তেজনা নেই এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

