উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ভয়ংকর ঋণের জালে নিম্ন আয়ের মানুষ

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ২৪ আগস্ট ২০২৫, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
ভয়ংকর ঋণের জালে নিম্ন আয়ের মানুষ

গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ কৃষক। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অনেকের জীবনের গল্প ক্রমেই হয়ে উঠছে বেদনাময়। রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকের আত্মহত্যার খবর আসছে। আত্মহননের পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তানদের নিজ হাতে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। আবার অনেকে পৈতৃক ভিটেবাড়ি ছেড়ে পরিবারসহ হচ্ছেন দেশান্তর। এর প্রধান কারণ, ঋণের বোঝা। বিশেষ করে সুদের কারবারি ও এনজিওগুলোর সহজলভ্য কিন্তু উচ্চসুদে ঋণের ফাঁদে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ দিশাহারা হয়ে এমন পথ বেছে নিচ্ছেন বলে উত্তরা  প্রতিদিনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জমির দলিল বা কাগজপত্রের জটিল শর্ত এড়াতে এবং সহজলভ্য না হওয়ায় কৃষক তথা নিম্ন আয়ের মানুষ ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে এনজিওর দোরগোড়ায় যাচ্ছেন। এনজিওগুলো সহজ শর্তে ঋণপ্রার্থীদের হাতে দ্রুত নগদ টাকা তুলে দিচ্ছে। কেউ আবার ঋণ নিচ্ছেন সুদের কারবারিদের কাছ থেকেও। এতে ঋণের ওপর সুদের হার কার্যত ৩০ শতাংশ বা তার বেশি হচ্ছে। ফলে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ঋণ নিয়ে চাপে পড়ে যান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। ঋণের চাপ থেকে মুক্তি পেতে দ্বারস্থ হন আরেকটি সংস্থার। এভাবেই জড়িয়ে পড়ছেন ঋণের ভয়ংকর জালে। পরে তারা ভিটেমাটি বিক্রি করে ঋণের জাল ছিন্ন করতে না পেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ পালিয়ে যাচ্ছেন সমাজ-সংসার ছেড়ে। রাজশাহীসহ জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই একই চিত্র দেখা গেছে।

ঋণের জাল: ঝরছে একের পর এক জীবন

‘আমরা মরে গেলাম, রেনের (ঋণের) দায়ে আর খাওয়ার (খাবারের) অভাবে’ গত ১৫ আগস্ট দুই পাতার এমন একটি চিরকুট লিখে নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে পবার বামনশিখর গ্রামের মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮), ছেলে মাহিন (১৩) ও মেয়ে মিথিলার (৩) লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই গত সোমবার জেলার মোহনপুর উপজেলার খাড়ইল গ্রামের পানবরজে আকবর শাহ (৫০) নামের এক কৃষকের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। তিনিও ঋণগ্রস্ত ছিলেন। বাড়িতে তার স্ত্রীর নামে পাওয়া যায় ১১টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পাস বই। দফায় দফায় এ সংস্থাগুলো থেকে ঋণ নিয়েছিলেন আকবর শাহ।

এদিকে ১৪ আগস্ট রাতে একই উপজেলার বেলনা গ্রামের রিকশাচালক ফজলুর রহমানকে (৫৫) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন তার মৃত্যু হয়। স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালে কেশরহাট এলাকার সুদের কারবারি ধুলু মিয়ার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন ফজলুর। সুদসহ ৪৩ হাজার টাকা শোধ করলেও আরও টাকা দাবি করেছিলেন ধুলু। আত্মীয়রা অভিযোগ করেন, সেই টাকা না দেওয়ায় ধুলু মিয়াসহ কয়েকজন ফজলুরকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে খুন করেছেন।

পরপর এমন বেশ কিছু ঘটনায় এনজিও ও সুদের কারবারিদের দৌরাত্ম্য সামনে এসেছে। যদিও ঋণের চাপে শুধু আত্মহত্যার ঘটনায় সরকারি কোনো পরিসংখ্যান না থাকায় সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে খবরের কাগজের অনুসন্ধানে আরও কিছু নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে কয়েক মাস আগে দুর্গাপুরে আত্মহত্যা করা কৃষক রেন্টু পাইকের বাড়ি থেকে ১৮টি এনজিওর পাস বই উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে অর্ধেকের ঋণ পরিশোধ থাকলেও বাকিগুলোর ঋণ চলমান ছিল।

এদিকে পবার বামনশিখর গ্রামেই গত দুই-তিন বছরে ঋণের বোঝা বইতে না পেরে তিনজন মৃত্যুর পথ বেছে নেন। তাদের মধ্যে মো. সাদ্দাদ হোসেন ঋণের চাপ সইতে না পেরে রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। এ ছাড়া মিঠুন নামে এক ব্যক্তি ঋণের টাকা শোধ করতে বাবার কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে বিষপানে আত্মহত্যা করেন।

ভিটেমাটি ছেড়ে দেশান্তর

সহজ শর্তে টাকা নেওয়ার সুযোগ পেয়ে রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই ছড়িয়ে গেছে এনজিওর ঋণের জাল। শতভাগ না হলেও অনেক গ্রামের ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। মানুষ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ঋণ নিলেও পরবর্তী সময়ে তা হয়ে পড়ছে গলার ফাঁস। এই ফাঁস থেকে মুক্তি পেতে বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে পরিবারসহ দেশান্তর হচ্ছেন অনেকে।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার নামাজগ্রাম এলাকার গাইন কালাম। তিনি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে বছর দুয়েক আগে নিজের ভিটেমাটি বিক্রি করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। আজও খোঁজ মেলেনি বলে তার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন। তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামের আব্দুল হাই লাভলু গত দেড় বছরে ব্র্যাক, আশা, আইডিএফ, গ্রামীণ উন্নয়ন কেন্দ্র, কারিতাস, জাগরণীসহ বেশ কয়েকটি এনজিও থেকে স্ত্রী, মা ও বোনের নামে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। কিন্তু উৎপাদন খরচের চেয়ে আলুর দাম অর্ধেকেরও কম পাওয়ায় তিনি এনজিওগুলোর ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে দুই মাস আগে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। এখন ঋণের বোঝা বিধবা মা নাসরিন বানুর কাঁধে। প্রতিদিন এনজিও থেকে লোকজন এসে তার মাকে চাপ দিচ্ছেন।

নাসরিন বানু বলেন, ‘ছেলে পালিয়েছে। এখন সেই ঋণের চাপ আমার ওপর পড়েছে। প্রতিদিন লোকজন এসে টাকা চায়। কোনো কোনো এনজিওর ৫০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ হয়েছে। কিন্তু তার পরও তারা সুদ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। যা দেখছি, মরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

শুধু লাভলুই নন; উপজেলার তালোন্দ ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম মোংলা, শহিদুল ইসলাম, লুৎফর রহমান মরু, এনামুলসহ অনেকেই ঋণের বোঝা বহন করতে না পেরে পৈতৃক বসতভিটা ছেড়ে পালিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, এই দুটি ইউনিয়ন ছাড়াও উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোর গ্রামের চিত্র প্রায় একই রকম।

উপজেলাগুলোর প্রায় ৮৫-৯৫ শতাংশ মানুষ কৃষিসহ বিভিন্ন কারণে ঋণ নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।

এখানেই শেষ নয়; ঋণের টাকায় ভ্যানগাড়ি কিনেছিলেন তানোরের এক দিনমজুর। কিন্তু ঠিকঠাক উপার্জন না হওয়ায় ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। স্ত্রী ও শাশুড়ি ওই ব্যক্তির শেষ সম্বল ভ্যান বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বলেন। উপায়ন্তর না পেয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য সম্প্রতি ওই দম্পতি তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমানের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পরে ইউএনও বিষয়টি সমাধান করেন।

জেলার বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম ওসেড থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া গ্রামের একটি সমিতি থেকেও তুলেছিলেন ঋণ। অভাবের তাড়নায় সেই ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে মাস দুয়েক আগে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোনো একটি জায়গায় রেখে এসেছেন। এখন তিনি গোপনে একটি চাতালে কাজ করছেন। এই গ্রামের শরিফুল ইসলাম ওসেড, আশাসহ বেশ কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। প্রতি সপ্তাহে তাকে প্রায় ৪ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হতো। কিন্তু নিয়মিত কিস্তি দিতে না পেরে এনজিওকর্মীদের চাপে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় পালিয়েছেন। একই দশা ওই গ্রামের বাছের আলী শেখেরও। বছরখানেক আগে তিনি সমিতি থেকে টাকা তুলে পরিশোধ করতে না পেরে পালিয়েছেন। এভাবেই বাগমারা উপজেলার অর্ধশতাধিক মানুষ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আত্মীয়স্বজন ছেড়ে লাপাত্তা হয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জেলার চারঘাট উপজেলার মুংলি ও কালুহাটি গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার ঋণের দায়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। পার্শ্ববর্তী বাঘা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের ইউনুস আলী সুদ কারবারিদের কাছে থেকে টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা শোধ করতে না পেরে তিনি কয়েক বছর থেকে বাড়িছাড়া। একইভাবে এই উপজেলার পীরগাছা, মাঝপাড়া, দিঘা, বাউসাসহ কয়েকটি গ্রামের অন্তত ২০ জন মানুষ ঋণের কারণে পরিবারের লোকজন নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

অন্যদিকে গোদাগাড়ী উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের মো. আকবর আলী ব্র্যাক থেকে সাড়ে ৩ লাখ, ঠ্যাঙ্গামারা থেকে দেড় লাখ, ব্যুরো বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ টাকা ও দি ঢাকা কো-অপারেটিভ ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘শুধু আমি নই, গোদাগাড়ীতে শতকরা ৯৯ জন মানুষই ঋণ নিয়ে কিস্তি চালাচ্ছেন। এখন চাইলেও ঋণ থেকে মুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। ফলে কিস্তি দিতে না পারলে এনজিওর লোকেরা দুপুরে খাওয়ার সময় কিংবা রাত ১১টার দিকে বাসায় চলে আসে, কিস্তি না পাওয়া পর্যন্ত যেতে চায় না। কিস্তি দিতে না পারলে মামলা করে। পরে টাকা পরিশোধ করলেও সেই মামলা চালিয়ে যেতে হয়। সেখানেও অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়।’

সমাজ চিন্তাবিদ আহম্মেদ শফী উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সমাজে এক চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য চলার কারণেই এই আত্মহত্যার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। আত্মহত্যার অনেক কারণ থাকলেও বর্তমানে ঋণের চাপ অন্যতম। অথচ এটি নিয়ে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাসহ কারোরই মাথাব্যথা নেই। এনজিওর ঋণের কিছু ভালো দিক থাকলেও এর অন্ধকার দিকও রয়েছে। কেননা এ কারণে অনেক মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে ফেলছে।’

ধনবৈষম্য তৈরির পেছনে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদেরও দায় ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্য জাকাত আদায়। কিন্তু এটা নিয়ে জোরালো আলোচনা শুনি না। এটি যদি সঠিকভাবে আদায় করা যেত, তাহলে অর্থনৈতিক সমস্যা এত প্রকট হতো না। তাহলে আত্মহত্যার মতো পথে মানুষ পা বাড়াত না।’

আত্মহত্যার বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবারের সদস্যদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে বেশ কষ্ট করছেন। আবার একটা শ্রেণি তাদের আখের গোছাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ অভাবের তাড়নায় ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে কঠিন শর্ত ও পারসেন্টেস দেওয়ার ভয়ে ব্যাংকের পরিবর্তে উচ্চসুদেও এনজিওর দ্বারস্থ হচ্ছেন তারা। এতে ঋণ শোধ করতে না পেরে বিপথগামী হচ্ছেন গ্রহীতারা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এন কে নোমান বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার যে প্রবণতা, তা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ ঋণ নিয়ে যথাযথ কাজ না করে তা ভোগ করেন। ফলে এখান থেকে রিটার্ন আসে না। আবার এই সুদভিত্তিক ঋণের ফলে একসময়ে তা অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। যখন সময়মতো কিস্তি দিতে না পারে, তখন সেই ভোক্তা সামাজিক, মানসিকভাবে নিগৃহীত হন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আরেক জায়গা থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে এই ঋণ এবং সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে তাকে ঘিরে ধরে। আমাদের দেশে যেসব এনজিও বা সংস্থার যে ঋণব্যবস্থা, এটা একধরনের শোষণের জায়গা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা বলে অনেকে ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণ বা মহাজনি কারবার চালায়। এ থেকে বেরিয়ে আসতে গোটা ব্যবস্থার সংস্কার দরকার। কিন্তু বাংলাদেশ এখন যে অবস্থায় আছে, সেখান থেকে ভোক্তাপর্যায়ে এই ব্যবস্থাগুলো সংস্কার করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে আত্মহত্যা বা এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিপর্যায়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। সুদভিত্তিক ঋণব্যবস্থার বিকল্প খুঁজতে হবে।’

ঋণ দেওয়া ও উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে টিএমএসএস খড়খড়ি শাখার ম্যানেজার মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থার উন্নয়নের জন্য আমরা সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে থাকি। সে ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়ার কারণ জেনে কৃষিকাজ বা গবাদিপশু ক্রয়ের জন্য টাকা দেওয়া হয়। আমাদের কিস্তি সাপ্তাহিক ও মাসিক হওয়ায় তেমন চাপ কেউ অনুভব করেন না। ফলে অধিকাংশই সঠিকভাবেই তাদের কিস্তি পরিশোধ করেন। কিন্তু অন্য প্রতিষ্ঠানের মেয়াদি ঋণ যদি কেউ নিয়ে থাকেন, তাহলে হঠাৎ করে অনেক টাকার চাপ পড়ে। এতে অনেকে হতাশার মধ্যে পড়তে পারেন।’

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণ দেওয়ার বা নেওয়ার যে জায়গাগুলো সেগুলো বন্ধ করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক তথা ব্যাংক থেকে যদি কেউ ঋণ নেয় তাহলে এই সমস্যাগুলো আর হবে না। কেননা প্রাতিষ্ঠানিক জায়গাগুলোতে আকাশচুম্বী সুদের হার থাকে না। আবার আদায়ের পদ্ধতিটাও ইংরেজ বেনিয়াদের মতো না। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক জায়গাগুলোতে সফট রিকভারির জন্য ঋণগ্রহীতারা চাপ অনুভব করেন না। এতে আত্মহননের মতো ঘটনাও ঘটে না।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home