উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজশাহী

স্থবির জনজীবন, বাড়ছে দুর্ভোগ
উত্তরা প্রতিবেদক ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:২০ অপরাহ্ণ
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজশাহী

চলতি শীত মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের জেলা রাজশাহীতে নেমে এসেছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। আজ বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এসময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া ও বাতাসে জলীয় বাষ্পের শতভাগ আর্দ্রতা মিলিয়ে শীতের অনুভূতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে রাজশাহী ও আশপাশের জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সূর্যোদয় হয় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে। তবে ঘন কুয়াশার কারণে সকাল ১০টার আগে সূর্যের দেখা মেলেনি। শহর ও মহাসড়কজুড়ে দৃষ্টিসীমা ছিল অত্যন্ত সীমিত। ফলে সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে ফগ লাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও যানজটও তৈরি হয়। পরে দিনভর সূর্যের উপস্থিতি থাকলেও রোদের তীব্রতা ছিল একেবারেই ম্লান। বাতাসে শীতলতা ও আর্দ্রতার কারণে দুপুরেও শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে।

এদিকে, প্রচণ্ড এই শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে ভোরের কুয়াশা ও হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের।

চারঘাট উপজেলা থেকে নগরীর বিনোদপুর বাজারে কাজের সন্ধানে আসা দিনমজুর শরীফ ইসলাম বলেন, গায়ে দুই-তিনটা গরম কাপড় পরেও শরীর ঠান্ডায় কাঁপে। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে কীভাবে?

একই অভিযোগ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক সাগর আলীর। তিনি জানান, শীতের কারণে রাস্তায় মানুষ কমে গেছে। যাত্রী নেই বললেই চলে। আয় কমছে, অথচ ঠান্ডায় গাড়ি চালানো খুব কষ্টকর।

অন্যদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী নগরীর ফুটপাত, হকার্স মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে গরম কাপড়ের বেচাকেনা বেড়েছে। সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল ও কম্বলের দোকানে ভিড় দেখা যাচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে কাপড় কেনার আশায় ভাসমান মানুষ ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা ভিড় করছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

এছাড়া, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষদের খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। রাতে ঠান্ডার তীব্রতা আরও বাড়ায় এসব মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

গত কয়েক দিনের আবহাওয়া পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাজশাহীতে ধারাবাহিকভাবে কমছে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল মাত্র ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তখন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল ১০ ডিগ্রি। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ব্যবধান আরও কমলে শীতের প্রকোপ বাড়বে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে রাজশাহী অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

শীত আরও বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কর্মজীবী মানুষের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে নিয়মিত পূর্বাভাস ও সতর্কতা জারি করছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম জানান, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আর্দ্রতা শতভাগ থাকায় শীতের প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শরীর দ্রুত ঠান্ডা অনুভব করছে। গত বুধবার দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল মাত্র ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শীতের অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়।

তিনি আরও জানান, রাজশাহীতে রেকর্ড করা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বর্তমানে দেশের সর্বনিম্ন। এর কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলা, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home