উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রামেক হাসপাতালের নতুন পরিচালককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন আ'লীগ-যুবলীগের নেতারা

উত্তরা প্রতিবেদক ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৫ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালের নতুন পরিচালককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন আ'লীগ-যুবলীগের নেতারা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলামের সঙ্গে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার দুপুরে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে এসে পরিচালককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তারা। এসময় পরিচালকের সঙ্গে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং ছবি তোলেন।

জানা গেছে, সাক্ষাতে আসা ব্যক্তিরা সবাই তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। শুধু তাই নয়, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে বিরোধিতা করার অভিযোগে মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

সাক্ষাতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন—তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সরনজাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সাজ্জাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কামারগাঁ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোসলেম, তানোর উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক তোফাজ্জল হক খাঁন, উপজেলা যুবলীগের সদস্য আব্দুল বারী, যুবলীগ নেতা রাসেল রানা এবং কৃষকলীগ নেতা তাহসেন আহম্মেদ। এ ঘটনার বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সাক্ষাতের সত্যতা নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলাম বলেন, 'আমার বাড়ি তানোর। তাই আমাকে বলা হয়েছিল-তানোর থেকে আমাদের পরিচিত কয়েকজন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসবে। আমি বলেছি, অলওয়েজ ওয়েলকাম। তারা তানোরবাসী হিসেবেই এসেছে। তাই বিষয়টি অন্যভাবে নেবেন না।'

সাক্ষাতে আসা ব্যক্তিদের দলীয় পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাদের সঙ্গে আমার আগে কখনো দেখা-কথা হয়নি। আমি ২০১৩ সালের পর তানোরে সেভাবে যাইনি। কে কি রাজনীতি করে বা থানা পর্যায়ে কি করে—এসবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তারা ফেসবুকে দেখে তানোরবাসী হিসেবে গর্ব প্রকাশ করতে এসেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে রামেক পরিচালক আরও বলেন, তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিল—এটা আমি জানতাম না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। তারা কোনো দলীয় ব্যানারে আসেনি। শুধু ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে, ৫-৭ মিনিট ছিল, ছবি তুলেছে, তারপর চলে গেছে।

দল-মত নির্বিশেষে তিনি সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জানিয়ে পরিচালক আরও বলেন, 'গতকাল (শুক্রবার) মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি রিটন সাহেব ফোন করে বলেছেন, তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন। আমি তাকেও বলেছি—অলওয়েজ ওয়েলকাম। পরিচালক হিসেবে আমি সবার পরিচালক। রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের সেবা করাই আমার দায়িত্ব।'

এ বিষয়ে জানতে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনকে ফোন করা হলে বিষয়টি শুনেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আবারও কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী বলেন, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি (পরিচালক) এটা জেনে করলেন না-কি অজ্ঞাতসারে এটা হয়েছে, আমরা তার ব্যাখা চাই।’

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home