উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

উত্তরা ডেস্ক ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:১৫ অপরাহ্ণ
পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

দেশের উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে দিন দিন বাড়ছে শীতের তীব্রতা। উত্তরের হিমালয়ের থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে পঞ্চগড়ে শীত জেঁকে বসেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন এ জেলার নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইসঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। আবহাওয়া অধিদপ্তর একে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে অভিহিত করেছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, গত সাত দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শনিবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কয়েকদিন ধরেই সকাল থেকে ঝলমলে রোদ থাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬–২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড করা হচ্ছে। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় আগের তুলনায় শীতের অনুভূতিও বেড়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে রোববার (৩০ নভেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার (২৯ নভেম্বর) ১৩.১, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ১৩.২, বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ১৩.০ এবং বুধবার (২৬ নভেম্বর) ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এসব দিনেও তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। মেঘ ও কুয়াশার কারণে সূর্যের তেজ কম থাকায় বিকেল ৩টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীতের তীব্রতা বাড়ায় সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রামীণ হাট-বাজারগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ ঘরমুখী হচ্ছে। এদিকে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বয়স্করা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান এলাকার বাসিন্দা আরিফ হাসান বলেন, গত কয়েকদিন থেকে এখানে অনেক শীত অনুভূতি হচ্ছে। দিন দিন বাড়তেছে। অনেক কষ্ট হচ্ছে আমাদের।

একই কথা বলেন মহানন্দা নদীতে পাথর উত্তোলন করা শ্রমিক রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও আমরা কাজে এসেছি। এই শীতের মধ্যে পানিতে নেমে কাজ করছি আমরা। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা পেলে অনেক উপকার হতো।

 

জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান জানান,এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় আট হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও লক্ষাধিক মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে এবং ধীরে ধীরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও কমছে। চলতি মাসে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো কম আসায় দিনেও হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home